অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের আগে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে নাহিদ রানার চোট। জিম্বাবুয়ে সফরে পাওয়া সেই ইনজুরির কারণে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন বাংলাদেশের তরুণ এই পেসার। তবে তাকে জিম্বাবুয়ে সফরে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তাঁর দাবি, নাহিদকে খেলানো ছিল প্রয়োজনীয় এবং সেই সিদ্ধান্তে টিম ম্যানেজমেন্টের কোনো ভুল ছিল না।
নাহিদের চোটের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের কথা মাথায় রেখেও কেন তাঁকে জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলানো হয়েছিল। বাশারের ভাষ্য, সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল মেডিকেল বিভাগ ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট দলের পরামর্শ অনুযায়ী।
প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আমরা যেকোনো খেলোয়াড় যখন বেছে নিই, এসেসমেন্ট চাই মেডিকেল ডিপার্টমেন্টের। বা ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করে যারা ওদের মতামত নিই। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট এখন মুখে হয় না, ট্র্যাক করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার সাথেও (ঘরের মাঠে সীমিত ওভারের সিরিজে) নাহিদ সব ম্যাচ খেলেনি। ব্রেক দিয়ে খেলিয়েছি। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট অনুযায়ী হারারে টেস্টে সে ফিট ছিল। এরপরও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের কথা ভেবে হারারে টেস্ট খেলাইনি।’
বাশারের দাবি, শুধু নাহিদ নন, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামেরও হারারে টেস্ট খেলার মতো শারীরিক সক্ষমতা ছিল। কিন্তু বড় সিরিজের আগে ঝুঁকি এড়াতেই তাঁদের বিশ্রাম দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইঞ্জুরড হওয়ার ভয়েই ওদের হারারে টেস্ট খেলাইনি। ওয়ানডেতে নাহিদ তিন ম্যাচের দুটি খেলেছে। ওয়ানডে সিরিজ র্যাংকিংয়ের বিষয় ছিল। টি-টোয়েন্টিতে ব্রেক দিতে পারতাম। তবে ওয়ার্কলোড যারা ম্যানেজ করেন তারা বলে থাকেন দুটো ব্যাপার আছে- ফাস্ট বোলারের রেড, গ্রিন, ইয়েলো জোন বলে থাকি, বেশি বোলিংয়ের লোড হলে রেডে চলে যায়, আবার কম বল করলেও রেডে চলে যায়।’
বিসিবির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে নাহিদের নির্দিষ্ট পরিমাণ বল করা প্রয়োজন ছিল। সেই ওয়ার্কলোড পূরণ করতেই তাঁকে জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলানো হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেখানেই চোট পান এই ডানহাতি পেসার। ফলে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসাকে ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে।









Discussion about this post