অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ শুরু হতে এখনও কয়েক সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে স্বাগতিক দেশের সংবাদমাধ্যমের নজরে চলে এসেছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। গত জুনে ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার গতিময় বোলিং ও আগ্রাসী উপস্থিতির কথা স্মরণ করে তাকে নিয়ে আলাদা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।
প্রতিবেদনটিতে নাহিদের উত্থানকে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের নতুন অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ধারাবাহিক বোলিং, বাড়তি বাউন্স এবং নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পেছনে রয়েছে গত জুনের সেই প্রথম ওয়ানডে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েই ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন নাহিদ। তার বিধ্বংসী স্পেলে ১৯১ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া, পরে বাংলাদেশ জেতে ৮৬ রানে। জশ ইংলিস ও অ্যালেক্স ক্যারির মতো ব্যাটারদের ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ইংলিসকে আউট করার পর দুজনের মধ্যে হওয়া উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও জায়গা পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে।
তবে প্রশংসার পাশাপাশি রয়েছে শঙ্কাও। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সাইড স্ট্রেইনে চোট পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়া সফরে নাহিদের খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানিয়েছে, এই খবর পাওয়ার পরই বাংলাদেশের নির্বাচকেরা জরুরি বৈঠকে বসেন। কারণ সফরে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল নাহিদকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিসিবি স্ক্যান রিপোর্টের অপেক্ষায় থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, চোট থেকে সেরে উঠতে তার অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ফলে ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমটির মতে, নাহিদ সুস্থ থাকলে সিরিজের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারতেন তার গতি ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের কারণে।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এরই মধ্যে শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, পেসার জশ হ্যাজলউড ও অফ স্পিনার নাথান লায়ন। অন্যদিকে বাংলাদেশ এখনও সফরের দল ঘোষণা করেনি।









Discussion about this post