বিশ্বকাপজুড়ে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল ফ্রান্স। অনেকের চোখে তারাই ছিল ফাইনালে ওঠার ফেবারিট। কিন্তু শেষ চারের লড়াইয়ে স্পেনের বিপক্ষে সেই দলটিকে যেন চিনতেই কষ্ট হয়েছে। বলের দখল, আক্রমণের গতি, রক্ষণে দৃঢ়তা—সব দিক থেকেই ফ্রান্সকে ছাপিয়ে ২-০ গোলের জয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্পেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের ছন্দে খেলেছে স্পেন। প্রতিপক্ষকে এক মুহূর্তও স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি তারা। আক্রমণ থেকে মাঝমাঠ—সব জায়গায় আধিপত্য ধরে রেখে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে লা রোহা। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। লামিন ইয়ামালকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে স্পট কিকের সুযোগ পায় স্পেন, আর সেটি কাজে লাগাতে ভুল করেননি ওইয়ারসাবাল।
গোল হজমের পর ফ্রান্স ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও তাদের আক্রমণে ছিল না কোনো ধার। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেকে ঘিরে গড়া আক্রমণভাগ স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। বরং প্রথমার্ধে আরও কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় স্পেন। অ্যালেক্স বায়েনার একটি গোল অফসাইডে বাতিল না হলে বিরতির আগেই ব্যবধান বেড়ে যেতে পারত।
দ্বিতীয়ার্ধেও বদলায়নি ম্যাচের চিত্র। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে সুযোগ খুঁজতে থাকে স্পেন। ৫৮ মিনিটে সেই অপেক্ষার ফল মেলে। দানি ওলমোর বাড়ানো পাস ধরে বক্সে ঢুকে মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করেন পেদ্রো পোরো। দ্বিতীয় গোলের পর ম্যাচ কার্যত স্পেনের মুঠোয় চলে যায়।
এরপর ফ্রান্স আক্রমণে ঝাঁপালেও স্পেনের রক্ষণে কোনো ফাঁক খুঁজে পায়নি। এমবাপ্পেদের হতাশা বাড়তে থাকে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে। পুরো ম্যাচে ফরাসিরা লক্ষ্যভেদী একটির বেশি শটও নিতে পারেনি, যা তাদের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সেরই প্রতিচ্ছবি।
শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের স্বচ্ছন্দ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। এই জয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল তারা। এখন শিরোপা জয়ের মঞ্চে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দল।










Discussion about this post