মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে সবচেয়ে আলোচিত নাম নাজমুল হোসেন শান্ত। শতক হাঁকিয়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলার পাশাপাশি নিজের ব্যাটিং দিয়েও মুগ্ধ করেছেন সতীর্থদের। আর সবচেয়ে কাছ থেকে পুরো ইনিংসটি দেখেছেন মুমিনুল হক। অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে শান্তর ব্যাটিং উপভোগ করতে করতেই যেন নিজের পুরোনো কিছু স্মৃতিতে ফিরে গেছেন তিনি।
আজ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে মুমিনুলের কথায় বারবার উঠে এসেছে শান্তর নাম। তার চোখে, বাংলাদেশ অধিনায়ক এখন নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন। বিশেষ করে কঠিন উইকেটে যেভাবে পাল্টা আক্রমণ করেছেন, সেটিই ম্যাচের গতি বদলে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
দুই ওপেনার দ্রুত ফিরলে মাত্র ৩২ রানেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। নতুন বলে শাহিন আফ্রিদি, হাসান আলী ও মোহাম্মদ আব্বাসের সুইং-সিমে ব্যাটিং করা তখন কঠিন হয়ে উঠেছিল। কিন্তু শান্ত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে পাকিস্তানের বোলারদের পরিকল্পনা নষ্ট করে দেন।
মুমিনুল বলেন, ‘এই উইকেটে নতুন বলে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। আপনারা নিজেরাও দেখছেন, দুই দিক দিয়ে বল মুভ করছে,সিম করছে। আমাদের দুই ওপেনার ভালো বলে আউট হয়েছে। তারপরে শান্ত যেভাবে পাল্টা আক্রমণ করেছে, তাতে ওরা অনেক পিছিয়ে গেছে। এরকম উইকেটে যখন কেউ এসে পাল্টা আক্রমণ করে, তখন বোলাররা ঘাবড়ে যায়। এটার পুরো কৃতিত্ব শান্তকে দিতে হবে। শেষে মুশফিক ভাইও ভালো ব্যাটিং করেছেন।’
১৭০ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান শান্ত ও মুমিনুল। এই জুটি শুধু রানই যোগ করেনি, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও এনে দিয়েছে স্বাগতিকদের হাতে। শান্ত করেছেন ১০১ রান, আর মুমিনুল ফিরেছেন ৯১ রানে।
শান্তর ইনিংসটি মুমিনুলকে মনে করিয়ে দিয়েছে তামিম ইকবালের ব্যাটিংয়ের কথা। বিশেষ করে কঠিন কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার মানসিকতায় মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি, ‘আমি যখন প্রথম টেস্ট খেলা শুরু করি বাংলাদেশ দলের তখন, নন স্ট্রাইকে থেকে ব্যাটিং বেশি উপভোগ করতাম তামিম ভাই যখন ব্যাটিং করতেন। নিউ জিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া, অনেক খারাপ কন্ডিশনেও উনি ভালো ব্যাটিং করতেন। শান্তও ওরকম করেছে। আমার কাছে মনে হয় শান্তর ইনিংসটি আমার চোখে দেখা ওর সেরা ইনিংসগুলোর একটি। ও যেভাবে প্রথম থেকে ডমিনেট করেছে, ওটা আমার অনেক ভালো লেগেছে।’
পাকিস্তানের সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত পেসার মোহাম্মদ আব্বাসকে খেলতে শান্ত যে আলাদা পরিকল্পনা নিয়েছিলেন, সেটিও তুলে ধরেছেন মুমিনুল, ‘ও (শান্ত) বাইরে বেরিয়ে এসেছিল, এটা ওর পরিকল্পনা ছিল আব্বাসের বিপক্ষে। তাকে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেললে কঠিন হয়, কারণ দুই দিক দিয়ে বল মুভ করে। তাই তাকে থিতু হতে না দেওয়ার জন্য ওই পরিকল্পনা নিয়েছে।’
শান্তর সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতা নিয়েও উচ্ছ্বসিত মুমিনুল। শেষ পাঁচ টেস্টে চারটি সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশ অধিনায়ককে এখন দেশের সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটার মনে হচ্ছে তার কাছে, ‘শান্ত অসাধারণ ফর্মে আছে। আপনি যদি ওর শেষ কয়েকটা ইনিংস দেখেন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে, নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে একশ করল। অনেক সময় অনেক চাপে থাকার পরও একশ করেছে। আজও অনেক কঠিন কন্ডিশনে একশ করল। জীবনের সবচেয়ে ভালো ফর্মে আছে ও।’









Discussion about this post