সিলেটের আকাশে তৃতীয় দিনের আলো ফুরানোর আগেই একটি ম্যাচের ফল বেরিয়ে গেছে। আরেকটি ম্যাচ তখনও চলছে, তবে সেখানেও ফলের গন্ধ স্পষ্ট। বিসিএলের প্রথম রাউন্ডে তাই দিনটি হয়ে থাকল উত্তরাঞ্চলের নির্ভার জয় আর পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রিত অগ্রযাত্রার দিন।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে দক্ষিণাঞ্চলকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে উত্তরাঞ্চল। তিন দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে আকবর আলীর দল। স্কোরকার্ডে ব্যবধান যত সহজ দেখায়, মাঠের গল্পে ততটাই বড় ছিল উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ।
দিনের শুরুতে উত্তরাঞ্চল প্রথম ইনিংসে ছিল ৬ উইকেটে ৩৭৯ রান। সেখান থেকে খুব বড় কিছু যোগ করতে পারেনি তারা। আরও ৪৭ রান যোগ করে ৪২৬ রানে থামে ইনিংস। আগের দিন ১৫১ রানে অপরাজিত থাকা প্রিতম কুমার থামেন ১৫৫ রানে। ইনিংস বড় করার সুযোগ থাকলেও তা হাতছাড়া হয়েছে তাঁর। সানজামুল ইসলাম করেন ৪৫ রান। দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে সফর আলী ৫ উইকেট নিয়ে লড়াইটা কিছুটা টিকিয়ে রেখেছিলেন।
কিন্তু ব্যাট হাতে দক্ষিণাঞ্চল সেই লড়াই টানতে পারেনি। প্রথম ইনিংসের ঘাটতি মেটাতে নেমেই তারা পড়ে যায় রবিউল হকের গতির সামনে। নতুন বল হাতে উত্তরাঞ্চলের এই পেসার একাই টপ অর্ডার ভেঙে দেন। ৫৯ রানে ৪ উইকেট হারানো দক্ষিণাঞ্চল পরে ৬৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে। তখন ইনিংস পরাজয়ও অসম্ভব মনে হচ্ছিল না।
সেখান থেকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন সামিউন বাসীর ও মঈন খান। সপ্তম উইকেটে তাদের জুটি দক্ষিণাঞ্চলকে লজ্জার হার থেকে কিছুটা দূরে নেয়। সামিউন করেন ৫৩, মঈন ৪২। তবে প্রতিরোধের মেয়াদ বড় হয়নি। পুরো দল গুটিয়ে যায় ১৭২ রানে।
রবিউল শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তাঁর চতুর্থ পাঁচ উইকেট।
লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৬১ রান। কিন্তু সেই লক্ষ্যও উত্তরাঞ্চল ছুঁয়েছে এমন গতিতে, যেন চার দিনের ক্রিকেট নয়, সীমিত ওভারের ম্যাচ চলছে। ৯.৪ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে তারা। সাব্বির হোসেন ছিলেন ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দু। ৩৫ বলে ৫৪ রানের ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা। দক্ষিণাঞ্চলের বোলারদের ওপর তিনি যেন আলাদা এক চাপ তৈরি করেছিলেন শুরু থেকেই।
অন্যদিকে মূল স্টেডিয়ামে পূর্বাঞ্চল এখন জয়ের খুব কাছে। ৩ উইকেটে ২৪৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা দলটি শেষ পর্যন্ত ৪৬৩ রানে অলআউট হয়। তাতে ১৫৬ রানের বড় লিড পায় তারা।
দিনের শুরুতে নজর ছিল মুশফিকুর রহিমের দিকে। সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও তিনি থেমেছেন ৮৩ রানে। জিসান আলমের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ধরা পড়েন। তাঁর বিদায়ে ভাঙে অমিত হাসানের সঙ্গে ১৫১ রানের মূল্যবান জুটি।
তবে অমিত থামেননি। ইনিংস গড়ার কাজ চালিয়ে যান ইয়াসির আলীকে সঙ্গে নিয়ে। পঞ্চম উইকেটে দুজন যোগ করেন আরও ১০৭ রান। অমিত খেলেছেন ১৬২ রানের অসাধারণ ইনিংস। ২৬৫ বলের ধৈর্যশীল ও পরিণত ইনিংসে তিনি মেরেছেন ১৮টি চার। ইয়াসির দিন শেষ করেছেন অপরাজিত ৭৯ রানে।
মধ্যাঞ্চলের হয়ে একমাত্র উজ্জ্বল বোলিং করেছেন রাকিবুল হাসান। বাঁহাতি এই স্পিনার নিয়েছেন ৫ উইকেট।
তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে মধ্যাঞ্চল আর কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন, তোফায়েল আহমেদ ও হাসান মুরাদের শৃঙ্খলিত বোলিংয়ে তারা ৮২ রান তুলতেই হারিয়েছে ৭ উইকেট। ইনিংস হার এড়াতে এখনো দরকার ৭৪ রান। হাতে আছে মাত্র তিন উইকেট।










Discussion about this post