পাকিস্তান সুপার লিগের চলতি আসরে আর ফেরা হচ্ছে না মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানার। জাতীয় দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই দুই পেসারের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফলে লাহোর কালান্দার্স ও পেশাওয়ার জালমির হয়ে তাদের বাকি ম্যাচগুলো খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য পিএসএল ছেড়ে দেশে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটার। ধারণা ছিল, সিরিজ শেষে আবার নিজ নিজ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যোগ দেবেন তারা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন পথে হাঁটল। চোটে পড়া পারভেজ হোসেন ইমন আগেই ছিটকে যান, আর টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে থাকা শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেনের ফেরার প্রশ্নই ওঠেনি। এবার একই তালিকায় যোগ হলেন মুস্তাফিজ ও নাহিদ।
মুস্তাফিজুর রহমান সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে চোটের কারণে মাঠে নামতে পারেননি। শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে পাঁচ উইকেট নিলেও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না বিসিবি। তাই তাকে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল পর্যবেক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে, নাহিদ রানা পুরো সিরিজে দারুণ বোলিং করে ৮ উইকেট নিয়ে হয়েছেন সেরা খেলোয়াড়। তবুও আসন্ন পাকিস্তান সিরিজকে সামনে রেখে তাকে বিশ্রাম ও প্রস্তুতির জন্য দেশে রাখতেই চায় বোর্ড।
এ বিষয়ে বিসিবি জানিয়েছে, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে শেষে জাতীয় দলের পেস বোলার মুস্তাফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করেছেন দলের চিকিৎসা বিভাগের কর্মী। মুস্তাফিজের শারীরিক অবস্থা আরও ভালোভাবে মূল্যায়নের জন্য দ্রুত স্ক্যান করা হবে এবং এরপর তিনি বিসিবি মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করবেন। এ কারণে, মুস্তাফিজকে আগে দেওয়া অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রত্যাহার করেছে বোর্ড। তাই তিনি পিএসএল ২০২৬-এর বাকি অংশ খেলতে পারবেন না। বিসিবি আরও জানাচ্ছে যে, ফাস্ট বোলার নাহিদ রানাকে পিএসএল ২০২৬-এর জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির জন্য তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
পিএসএলে মুস্তাফিজ খেলছিলেন পেশাওয়ার জালমির হয়ে, যেখানে দলটি প্লে-অফের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছে। ৯ ম্যাচে ৮ জয় নিয়ে তাদের পয়েন্ট ১৭। মুস্তাফিজ ৫ ম্যাচে ৬ উইকেট শিকার করেন। অন্যদিকে নাহিদ রানার লাহোর কালান্দার্স ৮ ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে টেবিলের পাঁচ নম্বরে, প্লে-অফের লড়াইয়ে এখনও টিকে থাকলেও তাদের পথ কঠিন। নাহিদ ৪ ম্যাচে নিয়েছেন ৭ উইকেট।










Discussion about this post