পেসারদের গল্পে সব সময়ই থাকে এক ধরনের দ্বৈততা-একদিকে গতি আর আগ্রাসন, অন্যদিকে শরীর সামলে দীর্ঘ পথচলার লড়াই। নাহিদ রানার ক্ষেত্রেও সেই গল্পের শুরুটা হয়েছে ঝলমলে, কিন্তু সামনে পথটা কতটা দীর্ঘ হবে, তা নির্ভর করছে তার নিজের ব্যবস্থাপনার ওপরই।
পাকিস্তান সুপার লিগে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর দেশে ফিরেই প্রশংসার পাশাপাশি সতর্কবার্তাও পেয়েছেন তিনি। নির্বাচক হাসিবুল হোসেন শান্ত মনে করিয়ে দিলেন, প্রতিভা যত বড়ই হোক, পেসারের ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন বুদ্ধিমত্তা ও নিয়ন্ত্রণ। তিনি বলেন, ‘আমার তো মনে হয় ওর মাত্র শুরু হয়েছে। লম্বা সময় আছে। খেলাটা তাকে বুঝে খেলতে হবে। কারণ পেস বোলাররা ইঞ্জুরিপ্রবণ। খেলার সংখ্যা, ওয়ার্কলোড বুঝে ম্যাচ খেলা উচিৎ। লম্বা ভবিষ্যৎ পড়ে আছে। নাহিদ যদি বোলিংয়ের সাথে শরীর খেয়াল রেখে চলতে পারে, ভবিষ্যতে অনেক দূর যাবে। বিশ্বের ১-২ নম্বরের মধ্যে চলে আসবে।’
বাংলাদেশ দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় পেস আক্রমণের গুরুত্ব বাড়ছে। আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পেস সহায়ক উইকেটের চিন্তাও চলছে। যদিও নিউজিল্যান্ড সিরিজের উইকেট কেমন হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলেননি শান্ত, ‘এটা প্রধান নির্বাচক, কোচ, অধিনায়ক মিলে বসেছেন। আমার জানামতে একটু স্লো উইকেট হতে পারে। তবে চাচ্ছেন সাথে যেন রানও হয়।’
প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি, ‘বি টিম বলা ঠিক হবে না। দলের সবাই এক ধাপেরই ক্রিকেট খেলে। আমার মনে হয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট হবে। যে দল ভালো খেলবে তাদেরই জেতার সম্ভাবনা থাকবে। পরিকল্পনামাফিক খেললে তাদের হারানো সম্ভব। বি টিম বলে তাদের ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’
একই সুর শোনা যায় সতীর্থ শরিফুল ইসলামর কণ্ঠেও, যদিও তার বক্তব্যে মিশে থাকে মাঠের অভিজ্ঞতা। পিএসএলে একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘দুইজনের আন্ডারস্ট্যান্ডিং অনেক ভালো ছিল। রানা অনেক ভালো করেছে মাশাআল্লাহ। কাজ সহজ হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, উইকেট আরেকটু বেশি পেলে ভালো হত।’
সংখ্যার বিচারে রানার পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই নজর কাড়ার মতো। সীমিত ম্যাচেই উইকেট নেওয়ার ধারাবাহিকতা আর নিয়ন্ত্রিত বোলিং তাকে আলাদা করে তুলেছে। এখন সামনে জাতীয় দলের জার্সিতে নতুন পরীক্ষা-নিউজিল্যান্ড সিরিজ।










Discussion about this post