ম্যাচ রেফারিদের দক্ষতা বাড়ানো এবং একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ইনডাকশন কোর্স’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দুই দিনব্যাপী এই কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞ আম্পায়ার সাইমন টফেল, যিনি বর্তমানে বিসিবির সঙ্গে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত আছেন। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাবনাময় নতুন ম্যাচ রেফারিদের চিহ্নিত করা এবং তাদের মানোন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া।
প্রশিক্ষণ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে টফেল বলেন, ‘গত কিছুদিন আমরা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় নতুন ম্যাচ রেফারিদের জন্য পরিচিতিমূলক একটি কোর্স করিয়েছি। আগামী মৌসুমের জন্য আমরা কীভাবে ধারণক্ষমতা তৈরি করতে পারি এবং স্ট্যান্ডার্ড সেট করতে পারি সেদিকে মনোযোগ দিয়েছি। ৬ মাস আগে যখন এই প্রজেক্টটি আমরা শুরু করি, আমি সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলেছিলাম। সাথে সবাইকে বলেছিলাম আমরা কীভাবে আরও ভালো হতে পারি সেই প্রসেসকে যেন সবাই সম্মান করেন। আমরা আজকে সেই লক্ষ্য আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছি। স্ট্যান্ডার্ড উন্নত করা এবং নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ব্যাপার ছিল। এখানে ৩৫ জন সম্ভাব্য বাংলাদেশি ম্যাচ রেফারিকে পেয়েছি, আগামী বছরের জন্য। আমরা সবাই তাদের ব্যক্তিত্ব, তাদের সামর্থ্য খতিয়ে দেখছি। এখানে কেবল কাজটা করলেই হবে না। ম্যাচ রেফারিদের সবার আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের দিকেও নজর দিতে হবে।’
এই কোর্সে অংশ নেওয়া প্রায় ৩৫ জনকে ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে দেখছে বিসিবি। তাদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে শুধু দক্ষতা নয়, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক দৃঢ়তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রশিক্ষকরা। টফেল এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘ম্যাচ রেফারি হওয়া সহজ কাজ নয়। এটা অনেক চ্যালেঞ্জিং এবং অনেক দায়িত্বের জায়গা। তারাই আমাদের ক্রিকেট আম্পায়ারদের পরীক্ষানিরীক্ষা করবেন। আশা করি আমরা কিছু ভালো লোক পাব। যারা কাজের ক্ষেত্রে অনেক দক্ষ হবেন।’
এই কর্মশালায় টফেলের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ রাহুল। বিসিবির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তিতে যুক্ত হয়ে টফেল ইতোমধ্যেই দেশের আম্পায়ারিং ও ম্যাচ রেফারিং কাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। এই ইনডাকশন কোর্স তারই একটি অংশ।
বাংলাদেশের আম্পায়ারিং অঙ্গন ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত আইসিসির এলিট প্যানেলে জায়গা করে নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। পাশাপাশি মাসুদুর রহমান মুকুল, গাজী সোহেল এবং নারী আম্পায়ার সাথিরা জাকির জেসি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুনাম অর্জন করেছেন।










Discussion about this post