বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন ঘিরে যে বিতর্ক চলছিল, তা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে সদ্য পদত্যাগ করা পরিচালক আমজাদ হোসেনের মন্তব্যে। নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে গত অক্টোবর থেকেই ঢাকার শীর্ষ ক্লাবগুলো লিগ বয়কট করে আসছে।
একই সঙ্গে ক্লাব ও বিভাগীয় কাউন্সিলরদের অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তদন্ত শুরু করায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই বিসিবির ভেতরের অবস্থান সম্পর্কে আংশিক ইঙ্গিত দিয়ে আলোচনায় আসেন আমজাদ।
রোববার রাতে হঠাৎ করেই তাকে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় মোখছেদুর রহমান বাবুকে। এর পরপরই পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তিনি। পরদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের সিদ্ধান্ত ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন আমজাদ।
বিসিবির নির্বাচন নিয়ে সরাসরি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হয়তো অংশগ্রহণের দিক থেকে চিন্তা করলে নির্বাচনটি আরও স্বচ্ছভাবে হতে পারতো। তবে সব নির্বাচন নিয়েই পক্ষ-বিপক্ষ বা বিতর্ক থাকে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’ তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হলেও তিনি বিষয়টিকে সাধারণ রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবেই দেখছেন।
বোর্ড পরিচালনায় কথিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির প্রভাব নিয়ে আলোচনা থাকলেও, আমজাদ এ ধরনের কোনো অভিজ্ঞতার কথা অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত এবং এর বিপরীতে বিসিবির প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, সম্প্রতি দেশের বাইরে থাকার কারণে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। এ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘মিডিয়া বিভাগ কেবল বোর্ডের সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমে পৌঁছে দেয়, সব সিদ্ধান্ত মিডিয়া বিভাগ নিজে নেয় না।’
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং কোনো চাপ বা প্রভাবের ফল নয়। বিসিবিতে কাজ করাকে তিনি সম্মানের বলে উল্লেখ করেন এবং বোর্ডের গঠনতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘পদত্যাগের কারণটি সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত। গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১৬-র ‘ছ’ অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ যেকোনো স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করতে পারে। বোর্ড যখন মনে করেছে আমার সার্ভিস প্রয়োজন নেই, তখন থেকেই আমি এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছি।’
তাকে সরানোর নির্দিষ্ট কারণ জানানো না হলেও তিনি এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং বোর্ডের প্রতি সম্মান বজায় রেখেছেন। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দ্বিমুখী মনোভাবের বিরোধিতা করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি, একদিন আগে পরিচালক থাকাকালীন বোর্ড ভালো ছিল আর আজ নেই দেখে বোর্ড খারাপ- এমন দ্বিমুখী নীতিতে আমি বিশ্বাস করি না। বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান আছে।’
সবশেষে বিসিবির প্রতি কোনো ক্ষোভ না রেখে ইতিবাচক বার্তাই দিয়েছেন আমজাদ হোসেন। গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিসিবিতে কাজ করা আমার জন্য সম্মানের ছিল। আমি চাই বোর্ড যেন ভালো কাজ অব্যাহত রাখে। আপনারা (সাংবাদিকরা) বোর্ডের সমালোচনা যেমন করবেন, তেমনি ভালো কাজগুলোও তুলে ধরবেন।’










Discussion about this post