একটা সময় স্কোরবোর্ডে ৪৪। ভারতের চার ব্যাটার ফিরেছেন ডাগআউটে। ব্যাংককের আকাশে তখন যেন বাংলাদেশের সম্ভাবনার আলো আরও উজ্জ্বল। নারী এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ফাইনালে ভারত ‘এ’ দলকে চেপে ধরেছিল ফাহিমা খাতুনের দল। কিন্তু ক্রিকেটের গল্প শেষ হয় শেষ দৃশ্যেই। সেই শেষ দৃশ্যটা বাংলাদেশের জন্য হয়ে রইল বেদনাময়-১৩৪ রান তাড়া করতে নেমে ৮৮ রানে অলআউট, হার ৪৬ রানে।
টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া ভারতের শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। নন্দিনী কাশ্যপ ও দীনেশ বৃন্দা ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন। কিন্তু দলীয় ৩০ রানে প্রথম উইকেট পড়তেই বদলে যায় ম্যাচের গতি। ফাতেমা জাহানের আঘাতে দীনেশ ফেরেন, এরপর রানআউটে নন্দিনী। ঠিক পরের বলেই ফারজানা ইয়াসমিনের শিকারে গোল্ডেন ডাক মিন্নু মানি। ৩৩ রানে ৩ উইকেট-বাংলাদেশ তখন স্পষ্টভাবে এগিয়ে।
অধিনায়ক ফাহিমা খাতুন নিজের স্পেলে আগুন ঝরিয়ে দলীয় ৪৪ রানে তুলে নেন চতুর্থ উইকেট। ভারতের ইনিংস যেন ভেঙে পড়ার মুখে। কিন্তু ফাইনালের চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়ান তেজাল হাসাবনিস ও অধিনায়ক রাধা যাদব। পঞ্চম উইকেটে ৬৯ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। রাধা ৩০ বলে ৩৬ রান করে বিদায় নিলেও তেজাল শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে নিয়ে যান ১৩৪ রানে।
সংগ্রহটা নাগালের মধ্যেই ছিল। ফাইনালে ১৩৪-অতিক্রম্য লক্ষ্য। পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভারে ৩৬ রান তুলে বাংলাদেশ সেই বার্তাই দেয়। যদিও তৃতীয় ওভারে ইশমা তানজিম (৩) বিদায় নেন। শামীমা সুলতানা আক্রমণাত্মক ১৫ বলে ২০ রান করে গতি তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর বিদায়ের পরই চাপে পড়ে দল।
১০ ওভার শেষে স্কোর ৩ উইকেটে ৪৮। রানরেট কমতে শুরু করে। শারমিন সুলতানা ৩০ বলে ১৮ রান করে উইকেটে টিকে থাকার লড়াই করেছেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় বাউন্ডারি আসেনি। সাদিয়ার ১০ রান, অধিনায়ক ফাহিমার ১১ বলে ১৪-ছোট ছোট অবদানগুলো ম্যাচ বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে।
শেষ পর্যন্ত ১৯.১ ওভারে ৮৮ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ভারতের প্রেমা রাওয়াত নেন ৩ উইকেট, সোনিয়া মেনধিয়া ও তানুজা কানওয়ার দুটি করে। টানা দ্বিতীয়বার রাইজিং স্টারসের শিরোপা জেতে ভারত ‘এ’, ২০২৩ সালের হংকংয়ের পুনরাবৃত্তি।










Discussion about this post