দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর অঙ্গীকার নিয়েই দায়িত্ব শুরু করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে তিনি কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভবিষ্যৎ ক্রীড়া উন্নয়নের একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেন।
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য স্পষ্ট করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে খেলাধুলাকে আমরা পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সেটারও বিষয় নিয়ে আমরা বিশদভাবে আলোচনা করছি যে কোনো মানদণ্ডে কীভাবে আমরা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে একটা বেতন কাঠামোর ভিতরে নিয়ে এসে আমরা সেটাকে নিশ্চিত করতে চাই। পাশাপাশি আমাদের আগামী বাংলাদেশে আমরা জাতীয় যে শিক্ষাক্রম আমাদের চতুর্থ শ্রেণি থেকে আমরা আমাদের খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে চাই এবং সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আমরা সেটা নিশ্চিত করব ইনশা আল্লাহ।’
তৃণমূল থেকে ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আজকের যে মতবিনিময় সভা সেটার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাদের যে আগামীর বাংলাদেশে আমরা প্রত্যেকটি তৃণমূল পর্যায় থেকে কীভাবে ক্রীড়াঙ্গনের একটি নতুন পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে পারি। কীভাবে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের উপজেলা, জেলা পর্যায়ে কীভাবে আমরা খেলাধুলাকে নিয়মিত রাখতে পারি, কীভাবে আমাদের উপজেলা কিংবা জেলা পর্যায়ের খেলাধুলো যেগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে সে খেলাগুলোকে কীভাবে জবাবদিহিতার ভেতরে আনতে পারি এবং আমাদের বাৎসরিক এক ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে এই খেলাধুলাকে সারা বছর নিয়মিত যেহেতু আমাদের মৌসুমের একটা ব্যাপার রয়েছে গ্রীষ্মকালীন এবং শীতকালীন, সেভাবে আমাদের ক্যালেন্ডার সাজাব। সাজানোর মাধ্যমে খেলাগুলোকে সারা বছর প্রতিনিয়ত খেলার মাঠে আমরা রাখতে চাই।’
ইভেন্টভিত্তিক অগ্রাধিকার নিয়েও তিনি পরিষ্কার বার্তা দেন। তাঁর ভাষায়, ‘কোন কোন ইভেন্টকে আমরা গুরুত্ব দিব, সেই বিষয়গুলো নিয়েও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সেটা আলোচনার মাধ্যমেই আমরা আমাদের ফুটবল, ক্রিকেট, হকি থেকে শুরু করে ব্যক্তিভিত্তিক যে খেলাগুলো রয়েছে, যে খেলাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা সাফ গেমস কিংবা এশিয়ান গেমস কিংবা ভবিষ্যতে অলিম্পিকে ভালো কিছু করার যে কর্মপরিকল্পনা বা চিন্তাভাবনা, আমাদের যে স্বপ্নগুলো রয়েছে সেই স্বপ্নগুলো যাতে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি সেই শুরুটা আমরা করতে চাই।’
অভিভাবকদের মানসিকতার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক বাবা-মা চান তাঁর সন্তান লেখাপড়া করে কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার হবে, কেউ ব্যারিস্টার হবে। কিন্তু খেলোয়াড় হবে এই কথা কেউ বলে না। কিন্তু আমরা সেই শুরুটা করতে চাই যে প্রত্যেক বাবা-মা যাতে তাদের সন্তানকে একজন খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করতে পারে। আমরা বলব না যে এটা রাতারাতি আমরা করে ফেলতে পারব। তবে আমরা শুরুটা করতে চাই। যে শুরুগুলোর কথা আমি যখন খেলোয়াড় ছিলাম, তখনও বলেছি। বিগত ১৭ বছর যখন রাজনীতির মাঠে ছিলাম মাঝেমাঝে আপনাদের সাথে দেখা হয়েছে কথা হয়েছে তখনো বলেছি।’
জেলা ক্রীড়া সংস্থা, বাজেট বৃদ্ধি, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সীমাবদ্ধতা, ফেডারেশনের সংখ্যা ও কার্যকারিতা—এসব বিষয়েও সাংবাদিকদের মতামত শোনেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘আমরা খেলাধূলাকে তৃণমূল থেকে জনপ্রিয় করে তুলতে চাই। অবকাঠামো নয়, আমরা খেলার মাঠকে গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে জেলা পর্যায়ে শিশু-কিশোররা খেলার পরিবেশ পায়।’
সাংবাদিকদের প্রস্তাব ও সমালোচনার জবাবে তিনি আশ্বাস দেন, ‘আমরা আপনাদের প্রস্তাব, মতামতগুলো শুনেছি। এটা আজ শুনলাম শেষ না, এখান থেকে কাজের শুরু। এগুলো পর্যালোচনা হবে, প্রয়োজনে কমিশন বা কমিটি হয়ে তদারকি চলবে।’
স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতে তার সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’
৫২টি ফেডারেশন-অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাঠামো, বাজেট সংকট, বিকেএসপির জবাবদিহিতা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সামনে এসেছে আলোচনায়। একই সঙ্গে অলিম্পিক স্বপ্নকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে সাফ ও এশিয়ান গেমসে সাফল্যের রূপরেখাও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।










Discussion about this post