দেশের ক্রিকেট অঙ্গন নানা ইস্যুতে উত্তপ্ত থাকলেও রোববার ভার্চ্যুয়াল সভায় গুরুত্বপূর্ণ চারটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৈঠকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আলোচনার পর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিজেদের সিদ্ধান্তগুলো প্রকাশ করে বোর্ড।
প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল প্রশাসনিক সৌজন্য ঘিরে। নতুন সরকারকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে বিসিবি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সরকারকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় আমিনুল হককেও অভিনন্দন জানিয়েছে বোর্ড।
নারী ক্রিকেটের বিকাশে বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রথমবারের মতো নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টির সূচি অনুমোদন করা হয়েছে। উদ্বোধনী আসরটি ২০২৬ সালের ৪ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। নারী ক্রিকেটকে পেশাদার কাঠামোয় এগিয়ে নিতে এই টুর্নামেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছে বিসিবি।
জাতীয় নির্বাচন প্যানেলের চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেনের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করতে চাননি। ফলে বিকল্প খুঁজে বের করার জন্য অতিরিক্ত সময় নিয়েছে বোর্ড। এই সময়ের মধ্যেই নতুন প্রধান নির্বাচক নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ে। নারী জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম-এর করা অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম-কে বিসিবির অধীনে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তদন্তে চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে আগেই জানিয়েছিল বোর্ড। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ শাস্তি বহাল থাকবে এবং ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের কোনো কর্মকাণ্ডে তাকে সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে কর্মরত মঞ্জুরুল গত বছরের ৩০ জুনের পর থেকে বিসিবির কোনো দায়িত্বে ছিলেন না। তবুও অভিযোগের প্রেক্ষিতে বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে-অভিযোগের ক্ষেত্রে আপস নয়।










Discussion about this post