বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পরও নিজ আসনে হেরে যাওয়ায় জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক আমিনুল হককে ঘিরে এক ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে নির্বাচনে হেরে গেলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। আজ থেকে তাঁর দাপ্তরিক কাজ শুরু হওয়ার কথা। শপথ নেওয়ার পরই তিনি শোনালেন তাঁর স্বপ্ন ও পরিকল্পনার কথা। গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে যেমন সতর্ক প্রহরীর দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকেও অতন্দ্র প্রহরীর মতো আগলে রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতির মিশ্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের প্রেক্ষাপটে আমিনুল স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আমি চাই যে খেলাধুলার ভেতরে যাতে রাজনীতিকীকরণ না করা হয়, দলীয়করণ না করা হয় এবং যারা খেলাধুলাকে ভালোবাসে, যারা ক্রীড়াঙ্গনকে ভালোবাসে, সেই মানুষগুলোকে বিভিন্ন সেক্টরে দায়িত্ব দিতে চাই। প্রতিটি সেক্টরকেই আমরা জবাবদিহির ভেতরে আনব।…সবাইকে জবাবদিহির ভেতরে থাকতে হবে।’ ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার।
খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়েও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে তার। ক্রীড়াকে একটি স্থিতিশীল পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। আমিনুল বলেন, ‘আমাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে, খেলোয়াড়দের আমরা প্রতি মাসে সরকারিভাবে তাদের বেতনের আওতায় নিয়ে আসব; যাতে একটি পেশাদারি মনোভাব তৈরি হয়। আমার খেলোয়াড়েরা যদি ভালো থাকে, তাহলে পরিবেশ ভালো থাকবে। অবকাঠামো নয়, খেলোয়াড়দের দিকে বেশি মনোযোগী হতে চাই।’
তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলার বিকাশ ঘটাতে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। শুধু বর্তমান খেলোয়াড় নয়, অবসর নেওয়া খেলোয়াড়দের কর্মসংস্থান নিয়েও ভাবছেন তিনি। দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার ক্রীড়া শিক্ষক ও অফিসার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে অগ্রাধিকার পাবেন সাবেক খেলোয়াড়েরা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সেসব খেলোয়াড়ের আশান্বিত করতে চাই, খেলা ছেড়ে দেওয়ার পরও আপনাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।’
ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়েও নিজের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন আমিনুল। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আমি বিগত সময়ে বলেছি, এখনো বলছি যে অনেক প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচন হয়েছে। তবে যেহেতু এখন একটি দায়িত্বশীল জায়গায় রয়েছি, তাদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে…কীভাবে আমরা ভালো একটি পর্যায়ে যেতে পারি।’ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফেরানোর প্রসঙ্গেও বক্তব্য দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি চান সাকিব দেশে ফিরুন। তাঁর ভাষায়, ‘সাকিব আর মাশরাফির বিষয়টি রাষ্ট্রীয় একটি সিদ্ধান্ত। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে অত্যন্ত নমনীয়। যেহেতু তাঁরা বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার, তাঁদের অবশ্যই আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু যে মামলাগুলো হয়েছে, সেটা রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে আমরা চাই, তাঁরা যাতে আমাদের বাংলাদেশে দ্রুত ফিরে আসতে পারেন।’
নিজে ফুটবলের মানুষ হওয়ায় এ খেলাটির প্রতি তাঁর আলাদা টান রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মানুষের ফুটবল-আবেগ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো ফলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে আমিনুল বলেন, ‘আমি ফুটবলের লোক, ফুটবলের প্রতি আমার আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। ভবিষ্যতে যে সাফ আছে, সেই সাফে যাতে ভালো কিছু করতে পারি এবং তা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় আছে, সর্বোচ্চটুকু আমরা করব।’










Discussion about this post