টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল লড়াই মাঠে চললেও, বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে মাঠের বাইরে। ভারত–শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে চলমান আসরের মধ্যেই লাহোরে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ইঙ্গিত মিলল-বিশ্বকাপে অংশ না নিতে পারলেও বাংলাদেশকে আর্থিক ক্ষতির দায় একতরফাভাবে বহন করতে হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল এখন বাংলাদেশের ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে এগোচ্ছে।
পাকিস্তানের রাজধানী প্রদেশের শহর লাহোরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং আইসিসি ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা দীর্ঘ আলোচনা করেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার আলোচনার পর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় না গেলেও পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের তথ্য বলছে, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্য রাজস্ব পুরোপুরি দেওয়ার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে এবং সে বিষয়ে নীতিগত সম্মতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
এই অগ্রগতির পেছনে যে বাস্তবতা কাজ করছে, তা পুরোপুরি অর্থনৈতিক। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিশ্বকাপের বিপুল রাজস্ব ঝুঁকির মুখে পড়তেই আইসিসি দ্রুত এমন সমাধান খুঁজতে বাধ্য হয়, যাতে একদিকে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, অন্যদিকে টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কাঠামোও অটুট থাকে। লাহোর বৈঠকে পাকিস্তান এই সমন্বয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
জিও টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিবির উত্থাপিত দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে আইসিসি একটি সমাধান কাঠামো দাঁড় করিয়েছে। সেই কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশকে সরাসরি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে অথবা ভবিষ্যতে আইসিসির কোনো ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুফল নিশ্চিত করা হতে পারে। বিশ্বকাপের লাভের অংশ থেকেও বাংলাদেশকে বঞ্চিত না করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
এই সমঝোতার আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো শাস্তিমূলক ঝুঁকি হ্রাস। ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে ধরনের শাস্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, এই ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া সেটিকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। বরং আইসিসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বোঝার চেষ্টা এবং সমর্থনের ইঙ্গিত মিলছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিও জানিয়েছে, বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি আইসিসির আলোচ্য সূচির শীর্ষে রয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বাংলাদেশ ইস্যুতে সমাধানের অগ্রগতি হওয়ায় পাকিস্তানও ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি খেলার ব্যাপারে নমনীয় অবস্থানে যেতে পারে।










Discussion about this post