বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের যাত্রা শুরু হয়েছিল বড় প্রত্যাশা আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে পেশাদার ফ্র্যাঞ্চাইজি সংস্কৃতি গড়ে তোলাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই লক্ষ্য ক্রমেই ঝাপসা হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে বিপিএলকে বিশ্বের স্বীকৃত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর মধ্যে একেবারে শেষ স্থানে রাখা হয়েছে, যা লিগটির দীর্ঘদিনের সংকটকে আবারও প্রকাশ্যে এনেছে।
আইসিসি স্বীকৃত ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়ে ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ‘দ্য ক্রিকেটার’-এর তৈরি র্যাংকিংয়ে বিপিএলের অবস্থান দশম। অর্থাৎ বিনোদন, মান কিংবা গ্রহণযোগ্যতা-কোনো দিক থেকেই এই লিগ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একসময় ক্রিকেটবিশ্বের দ্বিতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও জনপ্রিয়তা ও গুণগত মানের বিচারে বিপিএল আজ অনেকটাই পিছিয়ে।
এই র্যাংকিং তৈরিতে চারটি মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিনোদনমূল্য, খেলার মান এবং সামগ্রিক অবস্থানের ক্ষেত্রে বিপিএল সরাসরি তলানিতে অবস্থান করছে। গ্রহণযোগ্যতা বা স্থায়িত্বের দিক থেকেও অবস্থান খুব একটা ভালো নয়। শুধু একটি লিগ বিপিএলের নিচে থাকলেও, সেটি কোনো স্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে না। বরং সামগ্রিক মূল্যায়নে বিপিএলকেই সবচেয়ে দুর্বল টুর্নামেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দ্য ক্রিকেটারের বিশ্লেষণে বিপিএলের এই অবস্থানের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং লংকান প্রিমিয়ার লিগ, এই দুটি টুর্নামেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ইস্যু থেকে শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, সবকিছু মিলিয়েই নেতিবাচক রেটিং পেয়েছে বিপিএল।
বছরের পর বছর ধরে একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি বিপিএলকে ক্রমশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানচিত্রে কোণঠাসা করে ফেলেছে। মাঠের ক্রিকেটে মাঝেমধ্যে ভালো ম্যাচ দেখা গেলেও, সামগ্রিক আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা নেই। ফলে বিদেশি খেলোয়াড়, স্পন্সর কিংবা সম্প্রচার অংশীদারদের আগ্রহও কমে গেছে।










Discussion about this post