দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এমন সময় ক্রিকেটবিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে থাকার কথা ছিল দলগুলোর প্রস্তুতি, শক্তি-দুর্বলতা কিংবা সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে নানা বিশ্লেষণ। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আদৌ মাঠে গড়াবে কি না—এই অনিশ্চয়তা।
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের সম্ভাব্য বয়কট নিয়ে গুঞ্জন ছড়াতে থাকে। পাকিস্তানের জিও নিউজ উর্দু প্রথমে জানায়, পুরো বিশ্বকাপই বর্জন করতে পারে পাকিস্তান। পরে আরেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শুধু ভারতের বিপক্ষের ম্যাচও বয়কটের পথে হাঁটতে পারেন সালমান আলী আগা ও বাবর আজমরা।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ভারত ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৬০ কোটি টাকার সমান।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং টিকিট বিক্রি থেকে কোটি কোটি টাকা আয় হয় এই একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপেও মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে আগ্রহ ও বিতর্কই ছিল বেশি। সেই বাস্তবতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করলে পিসিবি শুধু বিপুল রাজস্ব হারাবে না, বরং আইনি জটিলতায়ও পড়তে পারে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে অন্যান্য বোর্ডও। ভারতের জিও স্টার স্পোর্টসের সঙ্গে আইসিসির প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্প্রচার চুক্তি রয়েছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর। এই চুক্তির রাজস্ব আইসিসির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগ হয়। পাকিস্তান ম্যাচ না খেললে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো আইসিসির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সব বোর্ডের ওপরই পড়বে।
মাঠের দিক থেকে পাকিস্তানের অবস্থানও এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বকাপের প্রথম দিন ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান।
এই দুই ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা। পাকিস্তান যদি শুরুতেই দুই ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে বয়কটের সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
এর আগে ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। সেদিনই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি উপেক্ষা করে আইসিসি অন্যায় করেছে।
এমনকি সরকারের নির্দেশ পেলে বিশ্বকাপ বর্জনের কথাও বলেন তিনি। বয়কট আলোচনার মধ্যেই পরদিন ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করে পিসিবি। পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক শেষে নাকভি জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।










Discussion about this post