বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের পর্দা উঠল ব্যাটিংয়ের ঝলকে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী ম্যাচে দর্শকরা উপভোগ করলেন রানের ফুলঝুরি, যেখানে শেষ দৃশ্যে বিজয়ের আলোয় উদ্ভাসিত হলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
স্বাগতিক সিলেট টাইটান্সের দেওয়া বড় লক্ষ্য অনায়াসে টপকে ৮ উইকেটের জয় তুলে নেয় পদ্মাপাড়ের দলটি। এই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, যার ব্যাট থেকে এসেছে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শান্ত। ব্যাট হাতে সিলেট শুরুটা করে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে। সাইম আইয়ুবের ঝোড়ো সূচনা দর্শকদের উজ্জীবিত করলেও তার বিদায়ের পর ইনিংসের ভার পড়ে অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশেলে। জাজাই দ্রুত রান তুলতে গিয়ে থেমে যান, তবে রনি তালুকদার ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়েন। তার সঙ্গে পারভেজ হোসেন ইমন ক্রিজে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের গতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মধ্যভাগে ইমন হয়ে ওঠেন সিলেটের আস্থার নাম। বোলারদের পরিকল্পনা বুঝে খেলেন নিখুঁত টাইমিংয়ের শট। স্লোয়ার কিংবা বৈচিত্র্য, কোনোটিই তাকে থামাতে পারেনি। মাত্র ২৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে তিনি জানান দেন বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত। আফিফ হোসেন ধ্রুবও নিজের ভূমিকা পালন করেন।
শেষ পর্যন্ত ইমন ৩৩ বলে ৬৫ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং সিলেট টাইটান্স নির্ধারিত ২০ ওভারে তোলে ১৯০ রান, যা উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং।
লক্ষ্য তাড়ায় রাজশাহী শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও অধিনায়ক শান্ত ছিলেন দৃঢ়চেতা। শুরুতে ধীরস্থির ব্যাটিং করে পরিস্থিতি বুঝে নেন তিনি। ফিফটি ছোঁয়ার পর শান্তর ব্যাটে আসে আগ্রাসনের ছাপ। চার-ছক্কায় তিনি দ্রুত রান তুলতে থাকেন। তার সঙ্গে মুশফিকুর রহিম যোগ দেওয়ায় রাজশাহীর ইনিংসে আসে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য।
দুজনের জুটি ভেঙে দেয় সিলেটের বোলারদের সব আশা। শান্ত তুলে নেন নিজের টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের স্মরণীয় এক সেঞ্চুরি, আর মুশফিক দায়িত্বশীল হাফসেঞ্চুরি করে জয়ের পথ সহজ করেন। শেষ পর্যন্ত দুই বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।










Discussion about this post