দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে কাটাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি, আর সেই সঙ্গে স্থগিত হয়ে আছে জাতীয় দলের হয়ে তার শেষবারের মতো মাঠে নামার স্বপ্ন। তবুও তার ইচ্ছা একই জায়গায় স্থির, বাংলাদেশের মাটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলেই ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চান বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।
বাংলাদেশের হয়ে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি ছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে, ভারতের কানপুরে। এরপর নির্ধারিত ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে একটি টেস্ট খেলে সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে সেটিও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। যদিও আন্তর্জাতিক দলে না থাকলেও সাকিব নিয়মিতই খেলছেন বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে, নিজের ফিটনেস ধরে রাখার লক্ষ্যেই।
এক পডকাস্টে এসে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে প্রথমবারের মতো সরাসরি কথা বলেন তিনি। সাকিব বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে আমি এখনো সব সংস্করণ থেকে অবসর নেইনি। প্রথমবার এটা প্রকাশ করলাম। আমার পরিকল্পনা হলো বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে ওয়ানডে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির যেকোনো একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে অবসরে যাওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি সিরিজ খেলে সব সংস্করণ থেকে অবসর নিতে পারি… যেভাবেই হোক, আমি খুশি। কিন্তু আমি একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে অবসর নিতে চাই। এটাই আমার চাওয়া। আমি দেশে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী। এজন্যই আমি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছি।’
নিজের বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের সামনে থাকার গুরুত্ব আরেকবার তুলে ধরে সাকিব বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় যখন কিছু বলে সেটাতে অটল থাকার চেষ্টা করে… আমি একটা খারাপ সিরিজও খেলতে পারি। আমার মনে হয় এটাই যথেষ্ট। এটা ভক্তদের বিদায় জানানোর একটা ভালো উপায়… ঘরের মাঠে সিরিজ খেলে তাদের কিছু ফিরিয়ে দিতে চাই।’
পডকাস্টে তিনি একই কথা আরও একবার পুনরাবৃত্তি করেন, ‘আমি কিন্তু এখনও অফিসিয়ালি ক্রিকেটের সমস্ত ফরম্যাট থেকে অবসর ঘোষণা করিনি… আমার পরিকল্পনা হল বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া। সেখানে ওয়ানডে, টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টির পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে অবসর নিতে চাই… ভালো খেললাম নাকি খারাপ খেললাম, সেটা বড় কথা নয়… যে সমর্থকরা সব সময় আমার পাশে ছিলেন, বিদায় জানানোর একটা মঞ্চ চাইছি।’
নিজের ক্যারিয়ারের বিশেষ অধ্যায় ২০১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলতে গিয়েও তুলে ধরেন কীভাবে প্রস্তুতির মধ্যেই তিনি বুঝেছিলেন এটি তার টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে। আইপিএলে বেঞ্চে বসার সম্ভাবনা তাকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল, ‘আমি দেখছিলাম কেউ ইনজুরড না হলে আমার এই বছর এই দলে খেলার তেমন সম্ভাবনা নেই… আমি হোটেল রুমে বসে নিজের সাথে কথা বলেছি… নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে ট্রেইনিং শুরু করলাম। টম মুডি বলল, তোমার কী হয়েছে? আমি বলেছি বিশ্বকাপে দেখতে পাবেন।’
সেই প্রস্তুতির ফল মিলেছিল ইংল্যান্ডের মাটিতে। দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ধারাবাহিক রান, আর জোফরা আর্চারের ভয়ংকর গতিকে সামলে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গিয়েছিল। সাকিব বলেন, ‘তাকে মোকাবেলা করার পর একটি ছয় মারলাম… এরপর আমি ভাবলাম, হ্যাঁ এখন আমি পারব। বাকিরা এর চেয়ে সহজ হবে।’
সেঞ্চুরি উদযাপনে সংযম থাকার কারণ নিয়েও তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিটি বল খেলব আমার দেশের জন্য, নিজের জন্য না। এটা আসলে দলের জন্য।’










Discussion about this post