মিরপুর শেরেবাংলায় আজ মঞ্চায়িত হলো বাংলাদেশের এক বিশেষ অধ্যায়, মুশফিকুর রহিম নামলেন দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টে। কিন্তু এই বিশেষ দিনে ব্যাট হাতে বাংলাদেশ যে দৃঢ়তা দেখাবে বলে আশা ছিল, প্রথম সেশনের শেষে তার অনেকটাই অপূর্ণ থেকে গেছে। আয়ারল্যান্ডের অফ স্পিনার অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের নিখুঁত ঘূর্ণিতে নড়বড়ে হয়ে পড়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার, লাঞ্চে যাওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে জ্বলে ওঠে মাত্র ৩ উইকেটে ১০০ রান।
ইনিংসের শুরু ছিল আশাব্যঞ্জক। সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয় আগের ম্যাচের সফলতা যেন আবারও ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। সতর্কতা ও সঠিক শট নির্বাচন দুইই ছিল তাদের ব্যাটে। জুটিও এগোচ্ছিল সুন্দর ছন্দে। কিন্তু ম্যাকব্রাইনের দারুণ এক স্পেল ভেঙে দেয় সেই ছন্দ। এলবিডব্লুর আবেদনে আম্পায়ারের প্রথম সিদ্ধান্ত টিকলেও রিভিউতে ধরা পড়ে সাদমানের ভুল; ৩৫ রানে শেষ হয় তার ইনিংস।
জয় এরপরও চেষ্টা করছিলেন দীর্ঘ ইনিংস গড়ার। ৮৬ বলের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়েও তিনি পাচ্ছিলেন না কাঙ্ক্ষিত বাউন্ডারি, আর সেই চাপই সম্ভবত ছুঁয়ে যায় তার সিদ্ধান্তকে। ম্যাকব্রাইনকে তুলে মারতে গিয়ে মিড–অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি, দল তখন বুঝে যায় যে সুন্দর শুরুর পরও লম্বা ইনিংস তারা আর পাচ্ছে না। জয় করেন ৩৪।
এরপর আসে আরেক ধাক্কা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত লং–অনে ছক্কা মেরে আশা জাগালেও পরের বলেই অফ স্টাম্পে আঘাত হানে ম্যাকব্রাইনের অসাধারণ ডেলিভারি। শান্ত ৮ রান করে ফেরেন, আর বাংলাদেশের স্কোর থেমে যায় ৯৫/৩–এ।
এই অবস্থায় ব্যাটিংয়ে নামেন মাইলফলকের নায়ক মুশফিকুর রহিম। প্রথম সেশনে তিনি ছিলেন পুরোপুরি সতর্ক। ঝুঁকি না নিয়ে প্রতিটি বল দেখে খেলেছেন। লাঞ্চের সময় তার সংগ্রহ ৩, অপর প্রান্তে মুমিনুল হক আছেন ১৭ রানে। দুজনের লক্ষ্য এখন ইনিংসকে স্থিতিশীল করা এবং দ্রুত উইকেট–পতনের ধাক্কা সামলে উঠা।
প্রথম সেশনটি তাই হয়ে রইল দোলাচলের ছবি, ভালো শুরু, তারপর ধারাবাহিক তিন আঘাতে থেমে যাওয়া অগ্রযাত্রা। এখন অপেক্ষা মুশফিক–মুমিনুল জুটির উত্তরণের দিকে, শততম টেস্টে মুশফিকই হয়তো গড়ে দিতে পারেন নতুন গল্প।










Discussion about this post