মিরপুর শেরেবাংলায় আজ সকালটা যেন ইতিহাসের সাক্ষী। বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো একজন ক্রিকেটার পা রাখলেন শততম টেস্টের মঞ্চে, আর সেই বিশেষ মুহূর্তের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন মুশফিকুর রহিম। শুরুতেই মাঠে ছোট্ট সাজানো মঞ্চ, অতিথি, পরিবার, সাবেক সতীর্থ-সব মিলিয়ে পরিবেশটা যেন পরিণত হয়েছিল আবেগে রাঙানো এক উৎসবে।
দিনের প্রধান চরিত্র মুশফিকুর রহিমের বক্তব্য ছিল ছোট, কিন্তু তাতে ছিল কৃতজ্ঞতার দীর্ঘ অনুভব। উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানানো দিয়ে শুরু করে মা–বাবা, স্ত্রী, কোচ, সতীর্থ-কেউ বাদ গেলেন না তাঁর স্মৃতিচারণা থেকে। ভক্তদের প্রতিও প্রকাশ করলেন বিশেষ কৃতজ্ঞতা। অভিজ্ঞতার ২০ বছরের পথচলার প্রতিচ্ছবি যেন ফুটে উঠল তার শেষ বাক্যটিতে, যেখানে তিনি বললেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য শুভ কামনা রাখেন তিনি, আর নিজের পক্ষ থেকেও দিতে চান শতভাগ।
উদ্যাপনের শুরুটা হয় তার অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের হাত ধরে। প্রথম টেস্টে যিনি তাকে ক্যাপ পরিয়েছিলেন, আজ তিনিই তার হাতে পরালেন শততম টেস্টের স্মারক ক্যাপ। সঙ্গে ছিলেন আরেক অভিষেক টেস্ট ক্রিকেটার আকরাম খান, যিনি মুশফিককে দিলেন আরেকটি বিশেষ ক্যাপ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আমিনুল ইসলাম, বিসিবির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা, এবং বর্তমান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাঁরা সম্মানসূচক ক্রেস্ট ও স্বাক্ষর করা স্মারক জার্সি তুলে দেন মুশফিককে।
এই বিশেষ দিনে অধিনায়ক শান্তও জানান দিলেন তার মনের কথা। তিনি বললেন, মুশফিক ছোটবেলা থেকেই তার অনুপ্রেরণা, মাঠে এবং মাঠের বাইরে যার কঠোর পরিশ্রম পুরো দলের জন্য উদাহরণ। দলের জন্য খেলাই যে মুশফিকের সবচেয়ে বড় পরিচয়, সেটি উঠে আসে শান্তর কণ্ঠে।
মিরপুরে যখন এই উদ্যাপন চলছিল, তখন দেশের বাইরে থেকেও ভেসে আসে আরেক আবেগঘন বার্তা। দীর্ঘদিনের সতীর্থ সাকিব আল হাসান লিখলেন এক খোলা চিঠি-ভরা ভালোবাসা, স্মৃতি আর শ্রদ্ধায়।
সাকিব মনে করিয়ে দেন ২০০৫ সালের লর্ডস টেস্টের গল্প, যখন তিনি বিকেএসপিতে বসে মুশফিকের অভিষেক বল দেখেছিলেন। সেই সময় থেকেই মুশফিক তাকে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অনুপ্রেরণা দিয়ে চলেছেন। বয়সভিত্তিক দলগুলোতে একসঙ্গে খেলার সময় থেকেই যে তিনি মুশফিককে নিজের ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে দেখেছেন, সেটিও জানিয়ে দিলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। এমনকি জানালেন, ইচ্ছা করছিল-শততম টেস্টে একসঙ্গে মাঠে থাকতে।
২০০৫ সালে লর্ডসে অভিষেক হওয়ার পর দুই দশকের পথ মুশফিক পার করেছেন উত্থান-পতনের সঙ্গী হয়ে। ওয়ানডে আর টি–টোয়েন্টিতে দায়িত্ব শেষ করলেও টেস্ট ক্রিকেটে এখনো তিনি দলের অন্যতম স্তম্ভ। আজ তার শততম টেস্ট শুধু একটি মাইলফলক নয়; এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা, অধ্যবসায় আর দায়বদ্ধতার এক প্রতীক।










Discussion about this post