পবিত্র মাহে রমজানের মাঝেই ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ভিন্ন এক আবহ তৈরি হয়েছে। ঈদুল ফিতরের আগে বাংলাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজ খেলতে রোববার ভোরে ঢাকায় পৌঁছেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পরে নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সেই মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে বিসিবি।
আগামী বুধবার ১১ মার্চ মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। একই ভেন্যুতে ১৩ ও ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বাকি দুই ম্যাচ। সবগুলো ম্যাচ বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে।
এর আগে শনিবারই পাকিস্তান দলের কোচিং স্টাফদের একটি অংশ ঢাকায় পৌঁছায়। শ্রীলঙ্কা থেকে সরাসরি ঢাকায় আসেন সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন, ফিল্ডিং কোচ শেন ম্যাকডারমট, বোলিং কোচ অ্যাশলে নফকে, স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ গ্র্যান্ট লুডেন এবং ফিজিওথেরাপিস্ট ক্লিফ ডিকন। পরদিন ক্রিকেটারদের একটি দল ঢাকায় পৌঁছায়, যাদের মধ্যে ছিলেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাহিবজাদা ফারহানসহ অন্যরা।
বাংলাদেশ সফরের জন্য ৪ মার্চ ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সিরিজকে সামনে রেখে করাচির হানিফ মোহাম্মদ হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে প্রস্তুতি নিয়েছিল পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা।
এই সিরিজটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রায় ১১ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে খেলতে এসেছে পাকিস্তান। সবশেষ ২০১৫ সালের এপ্রিলে দুই দল এদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল। সেই সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দুই দলের সামগ্রিক ওয়ানডে পরিসংখ্যানে পাকিস্তানেরই আধিপত্য রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৯ ম্যাচে পাকিস্তান জিতেছে ৩৪টি, আর বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ৫টিতে।
সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে এই সিরিজকে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নিলেও সুপার এইট পর্বে প্রত্যাশিত ফল পায়নি। তাই নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে দুই দলই।
এছাড়া ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের সেরা নয় দলের মধ্যে থাকলে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে দলগুলো। বর্তমানে ১০৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। অন্যদিকে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ফলে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করতে এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচি অনুযায়ী এই সফরে তিন সংস্করণের ক্রিকেট থাকার কথা ছিল। তবে পাকিস্তান সুপার লিগের সূচির কারণে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন এই সফরে শুধু তিনটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। পরে পাকিস্তান সুপার লিগ শেষ হলে আগামী মে মাসে আবার বাংলাদেশ সফরে এসে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান দল। সেই পরিবর্তিত সূচির কারণে এই সফরের তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বাতিল হয়েছে।
বাংলাদেশ সফরের পাকিস্তান দলে রয়েছেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি, আবদুল সামাদ, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফয়সাল আকরাম, হারিস রউফ, হুসেইন তালাত, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, মোহাম্মদ গাজী ঘোরি, সাদ মাসুদ, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান আলী আগা ও শামাইল হোসেন।










Discussion about this post