প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারের ধাক্কা কাটিয়ে সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ সিরিজ সমতায় ফেরার মিশনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মিচেল মার্শ।
এই ম্যাচেও নেই অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। দলে দুই পরিবর্তন। একাদশে থেকে বাদ শেখ মেহেদী হাসান এবং শরিফুল ইসলাম। তাদের জায়গায় দলে নাসুম আহমেদ ও নাহিদ রানা।
এই ম্যাচে হারলেই সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়ার, আর জয় পেলে শেষ ম্যাচের আগে সমতায় ফিরবে বাংলাদেশ।
ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই টি-টোয়েন্টি অধ্যায় শুরু করেছিল টাইগাররা। কিন্তু প্রথম ম্যাচে সেই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে পারেনি দল। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৪ উইকেটের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে স্বাগতিকরা।
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। ৩৯ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে পুরো ইনিংস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩১ রানেই অলআউট হয়ে যায় দল। অস্ট্রেলিয়ার স্পিন জুটি অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিসের সামনে কার্যত দিশেহারা ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
তবে বোলিং বিভাগ কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছিল। মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম নতুন বলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন। অভিষেক ম্যাচে দুই উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইনও। কিন্তু এত কম রান নিয়ে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইনআপকে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। কুপার কনোলির ৪৭ রানের ইনিংসে ভর করে ১৮.২ ওভারেই জয় তুলে নেয় সফরকারীরা।
দ্বিতীয় ম্যাচেও লিটন দাস দলে নেই। কাফ মাসলের চোটের কারণে প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। তার অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন তাওহিদ হৃদয়।
প্রথম ম্যাচে হারের পরও ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আজ আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আশা করি এখান থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াবো। আমরা সবাই জানি কী ধরনের ভুল করেছি, তাই আশা করি পরের ম্যাচে সেটা কাটিয়ে উঠতে পারবো। প্রতিটি সিরিজ আর প্রতিটি ম্যাচে বোলিং ইউনিট ভালো করেছে। পরেরবার আমরা আরও ভালো করবো।’
ম্যাচের আগে অনুশীলনের বদলে বিশ্রামকেই গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ দল। ক্রিকেটাররা হোটেলের জিম ও সুইমিংপুলে সময় কাটিয়ে নিজেদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সতেজ রাখার চেষ্টা করেছেন। টিম ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাস, চাপের এই সময়ে বিশ্রাম খেলোয়াড়দের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে।
উইকেট নিয়েও রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। প্রথম ম্যাচে ধীরগতির উইকেট এবং তুলনামূলক বড় বাউন্ডারির কারণে ব্যাটারদের রান করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে উইকেটের আচরণ এবং বাউন্ডারির মাপে কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সেটি হলে ব্যাটারদের জন্য রান তোলার কাজ কিছুটা সহজ হতে পারে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া নামছে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। প্রথম ম্যাচের জয় তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মিচেল মার্শ, জশ ইংলিস ও টিম ডেভিডদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের পাশাপাশি স্পিনে অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস আবারও বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন।









Discussion about this post