টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি সময় নেই, অথচ পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। দল ঘোষণা করা হলেও তারা আদৌ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে খেলবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির ভাষ্য অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে শুক্রবার অথবা আগামী সোমবার।
এই অনিশ্চয়তার মাঝেই পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে স্পষ্ট ও কড়া বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে। তাঁর মতে, সিদ্ধান্ত ঘোষণায় দেরি করলেও পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেবেই। ভারতীয় ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকবাজে হার্শা ভোগলে বলেন, ‘পাকিস্তান বিশ্বকাপ খেলতে আসবে। অবশ্যই আসবে। মানুষ অনেক সময় বোকার মতো কাজ করে, তবে মানুষ বোকা নয়। তারা বিশ্বকাপ খেলবে।’
হার্শার বিশ্বাস, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে অংশ না নেওয়া পাকিস্তানের জন্য বাস্তবসম্মত কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা ক্লাব ক্রিকেট না যে ওরা বলবে, ম্যানেজার আসেনি-তাই খেলব না, ওয়াকওভার দেব। এটা বিশ্বকাপ। তারা বলতে পারে না, আমরা ভারতের বিপক্ষে খেলব না। পাকিস্তান না এলে তাদের ক্রিকেটে এর বিশাল প্রভাব পড়বে।’
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের গুরুত্ব আলাদাভাবে তুলে ধরেন হার্শা। তার মতে, পাকিস্তান অনুপস্থিত থাকলে শুধু ক্রিকেটীয় নয়, আর্থিক দিক থেকেও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে টুর্নামেন্ট। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, পাকিস্তান যদি না আসার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের ফেরাতে কেউ বিশেষ উদ্যোগ নেবে না। হার্শা বলেন, ‘পাকিস্তানও জানে তারা বিশ্বকাপে খেলবে। তারা এমনিতেই কোলাহল করছে। আমার মনে হয় পাকিস্তানও জানে, তারা যদি বলে বিশ্বকাপ খেলব না, তাহলে বলা হবে-এসো না। কেউ তাদের গিয়ে বলবে না, আসো আসো।’
একই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের সম্ভাব্য বয়কট প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন ভারতীয় ক্রিকেটার অজিঙ্কা রাহানে। তাঁর বক্তব্যেও ছিল একই আত্মবিশ্বাস। রাহানে বলেন, ‘আমার মনে হয় পাকিস্তান না এসে থাকতে পারবে না। আমি মনে করি না তাদের সেই সাহস আছে।’
পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বর্জনের আলোচনা সামনে আসে মূলত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতের বাইরে ভেন্যু চেয়ে আইসিসির কাছে আবেদন করেছিল। তবে আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশকে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে। এতে আপত্তি জানানো হলে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানানো হয়।










Discussion about this post