টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরের পর্দা উঠল নাটকীয়তা, রোমাঞ্চ আর বিতর্কের আবহে। প্রথম দিনেই মাঠের লড়াই প্রমাণ করে দিল, শক্তির বিচারে পিছিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে জানে তথাকথিত ছোট দলগুলো। পাকিস্তানের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডস এবং ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের লড়াই সেই বার্তাই দিল। তবে দিনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোমারিও শেফার্ডের বিধ্বংসী বোলিং, যেখানে হ্যাটট্রিকের সঙ্গে যোগ হলো পাঁচ উইকেটের কীর্তি।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে দুবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫ রানে হারিয়েছে স্কটল্যান্ডকে। এই ম্যাচে মূলত দুই নায়ক-ব্যাট হাতে শিমরন হেটমায়ার এবং বল হাতে রোমারিও শেফার্ড। আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৫ উইকেটে তোলে ১৮২ রান। জবাবে স্কটিশরা গুটিয়ে যায় ১৮.৫ ওভারে ১৪৭ রানে।
এই ম্যাচে আসলে স্কটল্যান্ডের জায়গায় বাংলাদেশের খেলার কথা ছিল। কিন্তু উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দিলে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভেন্যু বদলের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ, যা আইসিসি গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে তারা। সেই সুযোগেই তড়িঘড়ি করে আসরে জায়গা পায় স্কটল্যান্ড।
টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়া স্কটল্যান্ড শুরুটা করেছিল দারুণভাবে। পাওয়ার প্লেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তারা আটকে রাখে ৩৩ রানে, যদিও কোনো উইকেট পায়নি। ব্রেন্ডন কিং ও শাই হোপের ওপেনিং জুটি ৮.২ ওভারে ৫৪ রান যোগ করে। অধিনায়ক হোপ ২২ বলে ১৯ রান করে আউট হলে উইকেটে আসেন শিমরন হেটমায়ার। কিংয়ের বিদায়ের পর রোভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে ৩৭ বলে ৮১ রানের জুটি গড়ে ক্যারিবিয়ানদের ইনিংসে গতি আনেন হেটমায়ার।
মাত্র ২২ বলে ফিফটি পূর্ণ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্রুততম অর্ধশতকের নতুন রেকর্ড গড়েন হেটমায়ার, ভেঙে দেন ক্রিস গেইলের দীর্ঘদিনের কীর্তি। শেষ পর্যন্ত ৬ ছক্কায় ৩৬ বলে ৬৪ রান করেন তিনি। পাওয়েল ও শেরফান রাদারফোর্ডের ঝোড়ো ইনিংসেও শক্ত ভিত পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্কটল্যান্ড। ৩৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারানোর পর রিচি বেরিংটন ও টম ব্রুসের ৭৮ রানের জুটিতে আবার ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখে তারা। কিন্তু সেই স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেন রোমারিও শেফার্ড।
১৭তম ওভারে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন শেফার্ড। ওই ওভারে হ্যাটট্রিকসহ চার উইকেট নিয়ে কার্যত ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি। ম্যাথু ক্রস, মাইকেল লিস্ক ও অলিভার ডেভিডসনকে পরপর আউট করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। ওভারের শেষদিকে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ৩ ওভারে ২০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি হয়ে যান প্রথম ক্যারিবীয় বোলার, যিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দশম হ্যাটট্রিক। মোট ৯ জন বোলার মিলে গড়েছেন এই কীর্তি, যেখানে প্যাট কামিন্স একাই করেছেন দুবার। শেফার্ডের এই পারফরম্যান্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে।
এই জয়ে আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে। আর স্কটল্যান্ড ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় মুখোমুখি হবে নবাগত ইতালির।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়া শিমরন হেটমায়ার।










Discussion about this post