এক সময় টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যানটাই ছিল শারমিন আক্তারের সবচেয়ে বড় বোঝা। ম্যাচের সংখ্যা বাড়ছিল, কিন্তু রান কিংবা প্রভাব-কোনোটাই সেই অর্থে আসছিল না। ২২ ম্যাচে গড় ১৬-এর একটু বেশি, স্ট্রাইক রেট ৭৫-এরও নিচে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যাটিংয়ে যে আত্মবিশ্বাস আর পরিণত ভাব দেখা যাচ্ছিল, এই সংখ্যাগুলো তার প্রকৃত সামর্থ্যকে তুলে ধরছিল না। নেপালে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সেই গল্প বদলানোর শুরুটা করলেন শারমিন নিজেই।
প্রায় এক বছরের বিরতির পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরে প্রথম ম্যাচেই জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। নিগার সুলতানার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রকে ২২ রানে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করেছে তারা। এই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন শারমিন আক্তার তার আগ্রাসী ফিফটিতে, আর পরে বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন নাহিদা আক্তার ও রিতু মনি।
নেপালের মুলপানিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের ইনিংস শুরুটা ছিল মিশ্র। দিলারা আক্তার শুরু থেকেই হাত খুলে খেলেন, চারটি চার মেরে মাত্র ৮ বলে ১৭ রান করেন। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। অভিষেক ম্যাচে জুয়ায়রিয়া ফেরদৌসও খুব একটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন না, ২৩ বলে ১৭ রান করে আউট হন। অধিনায়ক নিগার সুলতানার দ্রুত বিদায়ে চাপে পড়ে যায় ইনিংসের গতি।
মিডল ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াম পেসার মাহি মাধাবান ও ইসা ভাগেলার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশ ধীরগতিতে এগোতে থাকে। ১০ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে স্কোর দাঁড়ায় ৬৮। এমন সময়ে দায়িত্ব নিয়ে সামনে থেকে দলকে টানেন শারমিন আক্তার। সোবহানা মোস্তারির সঙ্গে তার চতুর্থ উইকেটের জুটি ধীরে ধীরে ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়।
দুজন মিলে যোগ করেন ৬৩ রান। সোবহানা ২৯ বলে ৩২ রান করে ফিরলেও শারমিন ছিলেন অনড়। সময়ের সঙ্গে আক্রমণ বাড়ান তিনি। মাত্র ৩২ বলে ফিফটি পূর্ণ করে জানান দেন, এই ইনিংস শুধুই পরিসংখ্যান বদলানোর নয়, আত্মবিশ্বাস ফেরানোরও। শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কা। টি-টোয়েন্টিতে এটিই তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস।
শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ১২ বলে অপরাজিত ১৬ রান বাংলাদেশের ইনিংসে বাড়তি গতি যোগ করে। শেষ সাত ওভারে ৭৭ রান তুলে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ২০ ওভারে ১৫৯ রানে, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
রান তাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র শুরুটা ভালোই করে। উদ্বোধনী জুটি ৪২ রান যোগ করে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে ফেলে দেয়। তবে লেগ স্পিনার রাবেয়া খানের বলে দিশা ধিংরার বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকে যায়। রিতু মনি পরের দুই ওভারে তুলে নেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট, যার মধ্যে ছিল ৩৬ রান করা চেতনা পাগিডিয়ালার উইকেট।
এরপর নাহিদা আক্তার কার্যত ম্যাচ শেষ করে দেন। বাঁহাতি এই স্পিনার এক ওভারেই তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। সাতে নেমে রিতু সিং ১৩ বলে ৩৩ রানের ঝোড়ো ইনিংসে লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও নাহিদার বলেই থামতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৭ রান।
নাহিদা আক্তার ২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচে বড় প্রভাব রাখেন। এটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় চার উইকেট নেওয়া ম্যাচ। রিতু মনি তিন উইকেট নিয়ে বোলিং আক্রমণকে আরও শক্ত করেন।










Discussion about this post