চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন হাসান মাহমুদ। জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচিতে দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছে, কাটাতে হয়েছে পুনর্বাসনের কঠিন সময়। তবে মাঠে ফিরেই যেন নিজের ছন্দটা দ্রুত ফিরে পেয়েছিলেন তিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের জার্সিতে আবার বল হাতে দেখা যায় বাংলাদেশের এই পেসারকে। আর সেই ফেরার গল্পের মাঝেই এলো বড় সুখবর-ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতে যাচ্ছেন হাসান।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে কাউন্টি ক্রিকেটে নাম লেখালেন এই ডানহাতি পেসার। ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব কেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তাকে দলে ভেড়ানোর খবর।
ডিপিএলে রূপগঞ্জের হয়ে খেলার সময় থেকেই ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো ধার ফিরে পাচ্ছিলেন হাসান। গতি, আগ্রাসন আর লাইন-লেন্থে আত্মবিশ্বাসী সেই চেনা হাসানকে দেখা যাচ্ছিল আবারও। আর ঠিক তখনই সামনে খুলে গেল আন্তর্জাতিক মানের আরেকটি বড় মঞ্চ।
কেন্টের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে সুযোগ পাওয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবেই দেখছেন তিনি। ক্লাবটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে হাসান বলেছেন, ‘কেন্টের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাবে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতে পারা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। এটা শুধু আমার জন্য নয়, বাংলাদেশের সবার জন্যও গর্বের একটি মুহূর্ত।’
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে ছয়টি ম্যাচ খেলবেন হাসান। আগামী ১২ জুন ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই হতে পারে তার কাউন্টি অভিষেক। এরপর ১৯ জুন ক্যান্টারবেরির বিপক্ষে আরও একটি ম্যাচ খেলবেন তিনি। পরে দেশে ফিরলেও সেপ্টেম্বরে আবার ইংল্যান্ডে যাবেন মৌসুমের শেষ চারটি ম্যাচ খেলতে।
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে মাঠে ফেরার পর থেকেই হাসানের আত্মবিশ্বাসে পরিবর্তন চোখে পড়ছিল। এখন সেই আত্মবিশ্বাসই তাকে নিয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে নিজেকে প্রমাণের পরীক্ষায়।
নিজের দায়িত্ব ও প্রত্যাশা সম্পর্কে আগেই কথা বলেছেন কেন্টের কোচিং স্টাফদের সঙ্গে। নতুন এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিতও তিনি।
হাসান বলেছেন, ‘আমি কঠোর পরিশ্রম করতে ও দলের সাফল্যে অবদান রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দলে আমি কী অবদান রাখতে পারি এবং আমার কাছে কী আশা করা হচ্ছে, সে সম্পর্কে আমি অ্যাডাম হোলিওক (কেন্টের প্রধান কোচ) এবং সাইমন কুকের সঙ্গে কথা বলেছি। এই কাউন্টির হয়ে মাঠে নামার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে এর আগে কেবল সাকিব আল হাসানই কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন। দীর্ঘ সময় পর এবার সেই তালিকায় যোগ হচ্ছে আরেকটি নাম। আর সেটিও এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশের পেস আক্রমণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।
হাসানকে দলে পেয়ে কেন্টও বেশ আশাবাদী। ক্লাবটির ডিরেক্টর অব ক্রিকেট সাইমন কুক মনে করছেন, বাংলাদেশের এই পেসার তাদের বোলিং ইউনিটে নতুন ধার যোগ করবেন।
কুক বলেছেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে আমাদের দলে হাসানকে স্বাগত জানানোর সুযোগ এসেছে, যা মৌসুমের শেষভাগে আমাদের বোলিং আক্রমণে আন্তর্জাতিক মানের পেস যোগ করবে। হাসান আসায় আমাদের স্কোয়াডের তৈরি হওয়া শক্তিশালী ভিত্তি আরও জোরালো হলো।’










Discussion about this post