বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে যেন বসেছিল ব্যাটিং উৎসব। রানবন্যার সেই ম্যাচে ব্যাট ও বল-দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে ৮৩ রানে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। শেখ মেহেদী হাসানের দল প্রথমে বিশাল সংগ্রহ গড়ে পরে প্রতিপক্ষকে অলআউট করে তুলে নেয় চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে টানা দ্বিতীয় জয়। এর আগে প্রথম ম্যাচেও তারা হারিয়েছিল রূপগঞ্জ টাইগার্সকে।
আজ বিকেএসপিতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি রূপগঞ্জের। দলীয় ৮ রানেই হারায় প্রথম উইকেট। আগের ম্যাচে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা আশিকুর রহমান শিবলী এবার ফেরেন মাত্র ৭ রান করে। আরেক ওপেনার হাবিবুর রহমানও একই রানে বিদায় নিলে চাপে পড়ে যায় দল।
সেই চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ইরফান শুক্কুর। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ২৩ বলে ৩৩ রান করেন তিনি। তবে তাকে ফিরিয়ে দেন সানজামুল ইসলাম। নাসুম আহমেদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ৩ রান করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এরপর ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন আইচ মোল্লা ও তানবির হায়দার। দুজনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় রূপগঞ্জ। আইচ মোল্লা ৭১ বলে ৬২ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কা। তানবির হায়দারও ৫১ বলে ৫৬ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাদের ব্যাটেই বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হয়।
অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ২৯ বলে ২৪ রান করলেও দিনের আসল আলো কেড়ে নেন সামিউল বাশির রাতুল। উইকেটে নেমেই বসুন্ধরার বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। মাত্র ৩৭ বলেই তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। এরপর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটার।
শেষ পর্যন্ত ৭০ বলে ১১৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন রাতুল। চার ও ছক্কার ঝড়ে সাজানো তার ইনিংস রূপগঞ্জকে নিয়ে যায় বিশাল সংগ্রহের পথে। শেষ দিকে মাসুম খান টুটুলও ২১ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে দারুণ সঙ্গ দেন। দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৫৮ রান তোলে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলতে থাকে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। দুই ওপেনার সাইফ হান ও ইমরানুজ্জামন ২২ রান করে বিদায় নেন। ফজলে মাহমুদ রাব্বী ও আল আমিন জুনিয়র করেন ৩২ রান করে। নুরুল হাসান সোহান ৪০ বলে ৩৩ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ৪২ বলে ৪২ রান করেন।
শেষ দিকে জিয়াউর রহমান মারকুটে ব্যাটিংয়ে কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দেন। ৩৮ বলে ৬১ রান করেন তিনি। তবে ততক্ষণে ম্যাচ পুরোপুরি রূপগঞ্জের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ৪১.৩ ওভারে ২৭৫ রানে অলআউট হয় বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স।
বল হাতেও দুর্দান্ত ছিলেন রূপগঞ্জের বোলাররা। অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ৫০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। রাতুলও ব্যাটের পর বল হাতে সমান তিন উইকেট শিকার করেন ৪২ রানে। আব্দুল হালিম নেন দুটি উইকেট। সফর আলি ও তানবির হায়দার পান একটি করে উইকেট।
বসুন্ধরার হয়ে রুহেল মিয়া, ইরফান হোসেন ও সানজামুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নিলেও দিনশেষে ম্যাচের নায়ক হয়ে থাকেন সামিউল বাশির রাতুল। তার বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতেই বড় জয় তুলে নেয় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।
টানা দুই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে আগামী ১০ মে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের মুখোমুখি হবে শেখ মেহেদী হাসানের দল।









Discussion about this post