ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠ আসর রঞ্জি ট্রফিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট দল। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে যাদের যাত্রা শুরু, সেই দলই ৬৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে লিখল রূপকথার গল্প। দীর্ঘদিন ধরেই শিরোপা ছিল অধরা; এবার আর সুযোগ হাতছাড়া করেনি তারা।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী কর্ণাটক ক্রিকেট দল। কিন্তু পাঁচ দিনের লড়াইয়ে কোথাও পিছিয়ে পড়েনি জম্মু-কাশ্মীর।
প্রথম ইনিংসে ৫৮৪ রানের পাহাড় গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা। শুভম পুন্ডির ১২১ রানের ইনিংস দলকে দেয় মজবুত ভিত্তি। জবাবে কর্ণাটক অলআউট হয় ২৯৩ রানে। ফলে ২৯১ রানের বিশাল লিড নিয়ে কার্যত ম্যাচ নিজেদের করে নেয় জম্মু-কাশ্মীর।
দ্বিতীয় ইনিংসে আরও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং দেখা যায়। ৪ উইকেটে ৩৪২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দলটি। কামরান ইকবাল অপরাজিত ১৬০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন, আর সাহিল লোতরা করেন ১০১ রান। ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা না থাকায় শেষ পর্যন্ত ড্র-ই মেনে নেয় দুই দল, তবে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার নিয়মেই শিরোপা নিশ্চিত হয় জম্মু-কাশ্মীরের।
এই সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন পেসার আকিব নবী। পুরো টুর্নামেন্টে ১০ ম্যাচে ৬০ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ফাইনালের প্রথম ইনিংসেও ৫ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই জম্মু-কাশ্মীরকে এনে দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
দলটির ইতিহাসও কম সংগ্রামের নয়। ১৯৬০ সালে অভিষেকের পর প্রথম জয় পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ১৯৮২ সাল পর্যন্ত। নিজেদের ৯৯তম ম্যাচে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়া সেই দলই এখন দেশের সেরা। প্রথমবার ফাইনালে উঠে প্রথমবারই শিরোপা জয়, এ যেন দৃঢ়তা ও বিশ্বাসের জয়গান।










Discussion about this post