ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না বাংলাদেশ। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থেকে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল লাল-সবুজের দল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ভেন্যু পরিবর্তনে কোনো ছাড় না দেওয়ায় এবং বাংলাদেশ সরকারের নিরাপত্তা অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় এই সিদ্ধান্ত অনিবার্য হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানান যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু স্থানান্তরের অনুরোধ না রেখে সুবিচার করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তারা সুবিচার করবে বলে আশা করছেন। আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেন তিনি।
আইসিসির দেওয়া ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বিসিবি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলায় অংশ নেওয়া হবে না। এর ফলে ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের অনুপস্থিতির ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি আগেই নিয়ে রেখেছিল আইসিসি। আগের দিন সংস্থাটির বোর্ড সভায় বাংলাদেশ ইস্যুতে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিসিবি হেরে যায় ১২-২ ব্যবধানে। বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন জানায় কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। অধিকাংশ পূর্ণ সদস্য দেশের সমর্থন না পাওয়ায় বিসিবির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গত কয়েক দিন ধরে আইসিসির সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ভেন্যু পরিবর্তনের যৌক্তিকতা তুলে ধরলেও অধিকাংশ বোর্ড বাংলাদেশের দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়নি। শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলই নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশের ভাগ্য।
ভোটাভুটির পর আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে আয়োজন করা হবে। টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়। একই সঙ্গে আইসিসি স্পষ্ট করে দেয়, বাংলাদেশ যদি ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে ‘সি’ গ্রুপে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ড অংশ নেবে, যদিও দলটি মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ৭, ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ১৯ আসরে অংশ নেওয়ার পর এবারের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি বড় মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিসিবির জন্য এটি কেবল একটি টুর্নামেন্ট মিস করা নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি বড় ধাক্কা।
এই সংকটের সূত্রপাত ঘটে গত ৩ জানুয়ারি, যখন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত ঘটনার জেরে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। সেই ঘটনার পরপরই বিসিবি নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে ধরে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত জানায় এবং সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেয়।
পরবর্তী প্রায় ২০ দিন ধরে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে ধারাবাহিক চিঠি চালাচালি ও বৈঠক চলে। আইসিসির এক প্রতিনিধি ঢাকায় এসে আলোচনাও করে যান। বিসিবির দাবি ছিল, তাদের অবস্থান আইনসংগত এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জবাবে আইসিসি জানায়, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন অনুযায়ী ভারতে বাংলাদেশের জন্য কোনো যাচাইযোগ্য হুমকি নেই এবং তাই ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ নেই।










Discussion about this post