অবশেষে নতুন প্রধান কোচের নাম ঘোষণা করল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। জার্মান বংশোদ্ভূত মার্কিন কোচ থমাস ডুলির হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে জাতীয় দলের দায়িত্ব। শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পরপরই তাকে নতুন কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে বাফুফে।
এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সকাল ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন ৬৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ কোচ। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাফুফের কর্মকর্তারা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেখান থেকে সরাসরি হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।
হাভিয়ের কাবরেরার বিদায়ের পর থেকেই বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ কে হবেন, তা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে চলছিল নানা আলোচনা। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার ইতি টেনে দায়িত্ব পেলেন থমাস ডুলি।
খেলোয়াড়ি জীবনেই বিশ্ব ফুটবলে নিজের নাম প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ডুলি। জন্ম জার্মানিতে হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন যুক্তরাষ্ট্রকে। জাতীয় দলের হয়ে ৮১টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি এবং অংশ নিয়েছেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপে। শুধু তাই নয়, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলের অধিনায়কও ছিলেন এই সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।
ক্লাব ফুটবলেও তার অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ। জার্মানির বায়ার লেভারকুসেন, শালকে ও কাইজারস্লাউটার্নের মতো ক্লাবে খেলেছেন তিনি। শালকের হয়ে ১৯৯৭ সালে উয়েফা কাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন, আর কাইজারস্লাউটার্নের জার্সিতে জিতেছেন বুন্দেসলিগা শিরোপা।
খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের পর কোচ হিসেবেও সফল পথচলা রয়েছে ডুলির। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ ছিলেন। এরপর ফিলিপাইন জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে দলটিকে ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্য এনে দেন। তার অধীনে ফিলিপাইন প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে এবং অর্জন করে নিজেদের সর্বোচ্চ ফিফা র্যাঙ্কিং।
এ ছাড়া ভিয়েতনামের ক্লাব ভিয়েতেলের স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সর্বশেষ গায়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন ডুলি। তার অধীনে গায়ানা চার ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছিল।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার থেকেই বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ক্যাম্পে দেখা যাবে নতুন এই কোচকে। বাংলাদেশের ডাগআউটে তার প্রথম পরীক্ষা হবে আগামী ৫ জুন। সেদিন প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোর মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।










Discussion about this post