বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রশাসনিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। বিতর্ক ও অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কমিটি ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এর পরপরই সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব।
এনএসসি জানিয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সেখানে সরকারি হস্তক্ষেপ, ই-ভোটিং প্রক্রিয়ায় কারচুপি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে এই প্রশাসনিক পরিবর্তন শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের প্রতিক্রিয়া বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তামিমকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হওয়ায় তামিম ইকবালকে অভিনন্দন। একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে তার নেতৃত্ব দেশে ও বিদেশে ক্রিকেটের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করবে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ক্রিকেট সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছিল। আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ, যা দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ককে শীতল করে তোলে। নিজেদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিল বাংলাদেশ, যদিও আইসিসি তাতে সম্মতি দেয়নি।
তবে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল আগেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বিসিবির পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের জন্য বিসিসিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছিল।









Discussion about this post