২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। সবকিছু ঠিক থাকলে এই সময়টায় বাংলাদেশ দলের অবস্থান থাকার কথা ছিল কলকাতায়। সূচি অনুযায়ী আগামীকাল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে আসতেন অধিনায়ক লিটন দাস, প্রধান কোচ ফিল সিমন্স কিংবা দলের অন্য কোনো ক্রিকেটার বা কোচ। কিন্তু উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ দল।
এক সময় যে টি-টোয়েন্টি সংস্করণ বাংলাদেশের জন্য ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সেই সংস্করণেই গত বছর দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে দলটি। ৩০ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ১৫টি, হেরেছে ১৪টি এবং একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে বৃষ্টিতে।
আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো দলগুলোর বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সাফল্যও এসেছে এই সময়ের মধ্যে। এমন একটি দলের বিশ্বকাপে না থাকা দুঃখজনক বলেই মনে করেন ইংল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার মঈন আলী।
সূচি অনুযায়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে এবং নেপালের বিপক্ষে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। মিরপুরের স্পিনবান্ধব কন্ডিশনের সঙ্গে ইডেন গার্ডেনসের মিল থাকায় এই ভেন্যুগুলোতে ভালো করার বাস্তব সম্ভাবনাও ছিল দলের। ক্রিকইনফোতে গত রাতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে মঈন আলী বলেন, ‘বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলার বিষয়টা দুঃখজনক। আমার মতে বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে ভালো করত। তারা দারুণ দল ছিল।’
বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বাংলাদেশের নাম কেটে যাওয়ার পেছনে ছিল নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত। গত ৩ জানুয়ারি মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তার পরদিনই, ৪ জানুয়ারি, ভারতে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এভাবে শেষ মুহূর্তে একটি দলের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া মেনে নিতে পারছেন না মঈন আলী। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যাপারগুলো অনেক দিন ধরেই ঘটছে। সামনে এসবের সমাধান আসবে বলে আশা করি। সমাধান হওয়া দরকার। কারণ, সেরা দলগুলোকে অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলাতে চাইবেন। কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে যখন নিজেদের সরিয়ে নেয়, তখন ব্যাপারটা অনেক দুঃখজনক।’
বাংলাদেশ বাদ পড়ার পর ২৪ জানুয়ারি আইসিসি নতুন করে সূচি ঘোষণা করে, যেখানে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেদিনই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার করেছে আইসিসি। পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর বিশ্বকাপ ইস্যুতে অবস্থান জানানোর কথা বলে পিসিবি। ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকারের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডল থেকে ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা আসে, যা বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন হিসেবেই উল্লেখ করা হয়।
ক্রিকেটে রাজনীতির প্রভাব ঢুকে পড়া নিয়েও হতাশ মঈন আলী। তিনি বলেন, ‘অনেক দেশে এগুলো অনেক বড় ইস্যু। অনেক বড় ঘটনাও ঘটতে পারে এসব কারণে। আশা করি ২-৩ বছরের মধ্যে এর সমাধান বের হবে। ব্যাপারটা দুঃখজনক। তবে এখন আর করার কিছু নেই।’
বাংলাদেশের জায়গায় ‘সি’ গ্রুপে খেলছে স্কটল্যান্ড। ইতালি, ইংল্যান্ড, নেপাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তাদের লড়াই। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিন ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্কটিশরা। এরপর ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে তারা একই ভেন্যুতে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে নেপালের মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড।










Discussion about this post