জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানের লজ্জাজনক হারের পর দলের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়াকেই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করছেন তিনি।
হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জিম্বাবুয়ে ৪১০ রান তুলে ২৭০ রানের বিশাল লিড নেয়। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সফরকারীরা। ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৮৫ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে আবারও ইনিংস ব্যবধানে টেস্ট হারল টাইগাররা। একই সঙ্গে ইনিংসের ব্যবধানে এটি বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়।
ম্যাচ শেষে পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শান্ত বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। ঐ ইনিংসের ব্যর্থতা আমাদের ম্যাচ হারের প্রধান কারণ।’
শুধু ব্যাটিং নয়, দুই বিভাগেই প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে না পারার কথাও স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিং ও বোলিং, দুই বিভাগেই আমরা ভালো পারফরমেন্স করতে পারিনি। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে। কিন্তু আমরা ভালো ক্রিকেটই খেলছিলাম।’
সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়াই বড় কারণ বলে মনে করছেন শান্ত। তার ভাষায়, ‘এখানকার কন্ডিশন ভিন্ন। তবে আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারিনি।’
এই টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিং আক্রমণ মাঠে দেখা যায়নি। কয়েকজন নিয়মিত পেসারকে বিশ্রাম দিয়ে দল সাজিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। এ বিষয়ে শান্ত জানান, এটি ছিল পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ।
টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্স সত্ত্বেও সামনে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘এটি পরিকল্পনারই অংশ । সাদা বলের ক্রিকেটে আমরা দুর্দান্ত খেলছি। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ভালো করতে দলের সবাই আত্মবিশ্বাসী।’
অন্যদিকে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচেই স্মরণীয় জয় পেয়েছেন জিম্বাবুয়ের রিচার্ড এনগারাভা। বল হাতে পাঁচ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই অলরাউন্ডার পুরো দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন।
এনগারাভা বলেন, ‘অনুভূতিটা দারুণ। সবাই কিছু না কিছু অবদান রেখেছে। ইনোসেন্ট কাইয়া দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে। গত কয়েক বছর ধরেই আমাদের অন্যতম সেরা ব্যাটার ব্রায়ান বেনেট। ভবিষ্যতে জিম্বাবুয়ের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠবে পেসার নিউম্যান নিয়ামহুরি। আমরা এখন ওয়ানডে সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছি এবং ধাপে ধাপে এগোতে চাইছি।’
ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন জিম্বাবুয়ের ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া। প্রথম ইনিংসে তার ১৪০ রানের ইনিংসই ম্যাচের ভিত্তি গড়ে দেয়। নিজের সাফল্যের রহস্য জানাতে গিয়ে কাইয়া বলেন, ‘মূল মন্ত্রটা ছিল বেশ সহজ। কঠোর পরিশ্রম করা এবং ফিট থাকা। উইকেট খেলার জন্য বেশ কঠিন ছিল।’









Discussion about this post