জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে একমাত্র টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হওয়ার পর স্বাগতিকরা ৪১০ রান তুলে ২৭০ রানের লিড নেয়। সেই ব্যবধান কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও প্রতিরোধ গড়তে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনেই ১৮৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ফলে আড়াই দিনের মধ্যেই শেষ হয় ম্যাচ। ইনিংস এবং ৮৫ রানের ব্যবধানে হেরেছে শান্তর দল।
আজ এক উইকেটে ৪০ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। তবে শুরুতেই ধাক্কা খায় দল। আগের দিনের সঙ্গে মাত্র এক রান যোগ করেই সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। ব্লেসিং মুজারাবানির অতিরিক্ত বাউন্সে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ২২ রানে থামেন তিনি। এরপর মুমিনুল হকও মুজারাবানির শিকার হন। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ১৩ রান করে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৪৬ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম চতুর্থ উইকেটে ৬০ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধের আভাস দেন। তবে সেটিও বড় ইনিংসে রূপ নিতে পারেনি। নিয়ামহুরির বলে ৩০ রান করে বোল্ড হন শান্ত। লাঞ্চের ঠিক আগে মুজারাবানির সুইং ডেলিভারিতে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ রান করে বিদায় নেন মুশফিক।
লাঞ্চের পর আরও দ্রুত ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। তাওহীদ হৃদয় ৯ রান করে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন। তাইজুল ইসলাম ৮ রান করে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন। অমিত হাসান ২৫ রানের ছোট্ট ঝড় তুললেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। খালেদ আহমেদ শূন্য রানে ফিরলে বাংলাদেশের পরাজয় সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। শেষদিকে হাসান মাহমুদ ১৫ রান করলেও নাগারাভার বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ইনিংসের সমাপ্তি টানেন। মাত্র ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিট ব্যাট করে তৃতীয় দিনে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান যোগ করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের হয়ে বল হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন ব্লেসিং মুজারাবানি। ভয়ংকর এক স্পেলে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই তার আঘাতে চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়ে সফরকারীরা।
এই হারের মাধ্যমে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয়বার ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। এর আগে ২০০১ সালের এপ্রিলে বুলাওয়েতে ইনিংস ও ৩২ রানে হেরেছিল টাইগাররা। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ৮৫ রানের পরাজয় বাংলাদেশের জন্য আফ্রিকার দলটির বিপক্ষে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার হিসেবে নথিভুক্ত হলো।
ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতা আরও হতাশাজনক হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক সাফল্যের প্রেক্ষাপটে। দেড় মাস আগেই পাকিস্তানকে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছিল বাংলাদেশ। বর্তমানে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ভারতকে পিছনে রেখেও অবস্থান করছে দলটি। তবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন অসহায় আত্মসমর্পণ সেই অর্জনের ওপর বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বাংলাদেশ দলের সঙ্গে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স এবং ব্যাটিং কোচ হিসেবে মোহাম্মদ আশরাফুল থাকলেও ব্যাটিং ইউনিটের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই ম্যাচে। প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানে অলআউট হওয়ার পর একই উইকেটে জিম্বাবুয়ে ৪১০ রান সংগ্রহ করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে বিদেশের মাটিতে তাইজুল ইসলামের ক্যারিয়ারসেরা ৭ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও ম্লান হয়ে গেছে দলের ব্যাটিং ব্যর্থতায়।









Discussion about this post