এশিয়া কাপে বাংলাদেশ শেষ করল গ্রুপপর্বের লড়াই। শুরুটা হয়েছিল হংকংয়ের বিপক্ষে জয়ে, এরপর শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বিপাকে পড়ে টাইগাররা। তবে আফগানিস্তানকে হারিয়ে আবারও টিকে গেছে তারা সুপার ফোরের দৌড়ে। এখন ভাগ্যের সূক্ষ্ম হিসাব দাঁড়িয়ে আছে শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান ম্যাচের ওপর।
বাংলাদেশের নেট রান রেট নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে হংকংয়ের বিপক্ষে কিছু ওভার হাতে রেখে জিততে না পারার আক্ষেপ রয়ে গেছে। তবে তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম অতীত নিয়ে ভাবতে নারাজ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, ‘এটা নিয়ে আফসোস করতে চাই না। যেটা অতীত, সেটা হয়ে গেছে। এখন আমাদের সামনে যে সমীকরণটা থাকবে, সেটার দিকেই তাকিয়ে থাকব।’
তানজিদ স্বীকার করেছেন, আফগানিস্তান ম্যাচে রান রেট মাথায় ছিল। তবে তার কাছে জয়টাই মুখ্য, ‘অবশ্যই মাথায় ছিল। সুযোগ ছিল আমাদের। আমাদের দলের জন্য ভালো হতো হয়তো (ব্যবধান বড়) হলে। হয়নি, এখন কিছু করার নেই। কারণ, আমাদের ম্যাচ এটা জিততেই হতো। ম্যাচ জিতেছি, এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।’
বাংলাদেশকে প্রায়ই বড় টুর্নামেন্টে জটিল সমীকরণের ভেতর পড়তে হয়। এ প্রসঙ্গেও তার জবাব ছিল বাস্তবসম্মত, ‘আমরা কখনো এভাবে দেখি না। প্রতিটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আগের ম্যাচটা হেরে গিয়েছি, কিছু বলার নাই ওই ম্যাচটা নিয়ে। কারণ, ম্যাচটা খুব বাজেভাবে হেরেছি। আমরা যখন মাঠে যাই, ১০০ ভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি।’
তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের মূল কৃতিত্বটা তিনি দিয়েছেন নাসুম আহমেদকে। বাঁহাতি স্পিনারের ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ২ উইকেট ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। তানজিদ তামিম বলছিলেন, ‘নাসুম ভাই এর আগেও নেদারল্যান্ডস সিরিজে এসেই ম্যাচসেরা হয়েছেন। উনি যখনই একাদশে আসেন তখনই চেষ্টা করেন নিজের সেরাটা দেওয়ার। আজও শুরুতেই তার স্পেল খেলা আমাদের দিকে টেনে এনেছে।’
শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের এক ওভারে কয়েকটি বড় শট এসে যাওয়ায় ব্যবধানটা আর বাড়েনি-এ নিয়েও কিছুটা আক্ষেপ শোনালেন তানজিদ, ‘আরেকটু বড় ব্যবধানে জিততে পারতাম যদি শেষে দুই-একটা বাউন্ডারি না আসতো, সেটা আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো।’
সব মিলিয়ে আফগানিস্তানকে হারিয়ে লড়াইয়ে টিকে থাকলেও বাংলাদেশ এখনো নিশ্চিত নয় সুপার ফোরে। আগামীকাল লঙ্কানরা যদি জিতে যায়, তবেই মিলবে পরের পর্বের টিকিট। তবে আফগানিস্তান জিতলেই সামনে আসবে জটিল হিসাব।










Discussion about this post