পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ফিটনেস ট্রেনার নাথান কেলি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ম্যানেজার জামাল বাবু।
অস্ট্রেলিয়ান এই ট্রেনার এশিয়া কাপ চলাকালীনই বোর্ডকে জানিয়েছিলেন, সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য তিনি ছুটি চান। বিসিবি সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয়। এরপর কেলি আর দলের সঙ্গে যোগ দেননি।
জামাল বাবু বলেন, ‘এশিয়া কাপের পর আমিরাতে আফগানিস্তান এবং মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে তিনি ছিলেন না। পরে জানান, নবজাতক ও স্ত্রীর যত্ন নেওয়ার জন্য আরও সময় প্রয়োজন। তাই আপাতত দলের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়। আমরা এখন তার বিকল্প খুঁজছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নতুন ফিটনেস ট্রেনার নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন ফিটনেস ট্রেনারের দায়িত্বে আছেন ইফতেখার রহমান ইফতি। আয়ারল্যান্ড সিরিজেও তিনি দলের সঙ্গে থাকবেন। বিসিবির পরিকল্পনা, আগামী বছরের শুরুতে বিশ্বকাপের আগেই নতুন ট্রেনার নিয়োগ দেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল দুই বছরের চুক্তিতে বিসিবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন কেলি। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগেই বিদায় নিলেন তিনি।
জাতীয় দলের ফিটনেস সংস্কৃতিতে কেলি এনেছিলেন কিছু নতুনত্ব। প্রচলিত ‘বিপ টেস্ট’ বাদ দিয়ে তিনি চালু করেন দেড় হাজার মিটারের টাইম ট্রায়াল দৌড়, যেখানে খেলোয়াড়দের সহনশীলতা ও গতি পরিমাপ করা হতো। মিরপুরে শর্ট রানিং, ইন্টারভাল রানিং ও টেম্পো রানিংয়ের মতো আধুনিক ফিটনেস পদ্ধতি ব্যবহারে কেলি বিশেষ মনোযোগ দিয়েছিলেন।
তার তত্ত্বাবধানে শান্ত, রিশাদ ও তানজিমের মতো তরুণরা নিজেদের ফিটনেসে দৃশ্যমান উন্নতি আনেন। তবে পারিবারিক কারণেই শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব ছাড়তে হলো তাকে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম সন্তানের বাবা হয়েছেন নাথান কেলি। এশিয়া কাপ চলাকালে স্ত্রী-সন্তানের পাশে থাকার জন্য তিনি দেশে ফিরে যান, তারপর আর দলের সঙ্গে যোগ দেননি।










Discussion about this post