সিরিজে বেঁচে থাকার লড়াই, আত্মসম্মান রক্ষার লড়াই-দুই চাপ নিয়েই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরে পেছনে পড়ে আছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। তাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটি হয়ে উঠেছে অঘোষিত ফাইনাল। জয় ছাড়া অন্য কোনো ফলাফল মানতে পারবে না টাইগাররা।
আজ টসে ভাগ্য সহায় হয়নি মিরাজের। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আফগানিস্তান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদি। আগের ম্যাচে টস জিতে একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মিরাজও। এবার টসে হেরে বাংলাদেশকে ফিল্ডিং দিয়ে শুরু করতে হচ্ছে। টস শেষে মিরাজ বলেন, “টস জিতলেও আমরা ব্যাটিংই নিতাম।” অর্থাৎ উইকেটের চরিত্র আগের মতোই ব্যাটিং সহায়ক বলে মনে করছে বাংলাদেশ দল।
প্রথম ম্যাচে হার এবং ব্যাটিং ধসের পর দল সাজানোয় এসেছে পরিবর্তন। একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ, দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ মুস্তাফিজুর রহমান এবং তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। গত ম্যাচে স্পিন সহায়ক উইকেটে মুস্তাফিজকে না খেলানো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল; এবার সেই ভুল সংশোধনের ইঙ্গিত দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ওয়ানডে পারফরম্যান্স আশঙ্কাজনক। শেষ ১১ ম্যাচে জয় মাত্র একটি, বাকি ম্যাচগুলোতে পরাজয় কিংবা পরিত্যক্ত ফল। এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা থেকে মুক্তি পেতে আজ জয়ের বিকল্প নেই। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন জীবিত রাখতে হলে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করতে হবে, আর তার প্রথম ধাপ হতে পারে আজকের ম্যাচ জয়।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় সিরিজ হারার শঙ্কাও ঘিরে ধরেছে দলকে। ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে প্রথমবার আফগানদের কাছে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ, পরের বছর শারজাহতেও একই ফল। এবারও প্রথম ম্যাচে হেরে আগের সেই ছায়া দেখা যাচ্ছে মিরাজদের ওপর। তবে ইতিহাস বদলাতে হলে আজ মাঠে দেখাতে হবে লড়াইয়ের মনোভাব ও আত্মবিশ্বাস।
প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল পরাজয়ের মূল কারণ। প্রচুর ডট বল খেলে ইনিংসের গতি হারায় বাংলাদেশ, শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে লড়াইয়ের মতো রান তুলতেও ব্যর্থ হয়। বোলিংয়েও দেখা গেছে ধারহীনতা। আজ মুস্তাফিজ ও রিশাদের উপস্থিতি হয়তো সেই চিত্র কিছুটা বদলাতে পারে।
আফগানিস্তান একাদশ : রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), ইবরাহিম জাদরান, সেদিকউল্লাহ আতাল, রহমত শাহ, হাশমতউল্লাহ শহিদি (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নবী, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, রশিদ খান, এএম গাজানফার, বসির আহমেদ এবং নানগেয়ালিয়া খারোটে।
বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), জাকের আলী অনিক (উইকেটরক্ষক), নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), তানভীর ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রিশাদ হোসেন এবং মুস্তাফিজুর রহমান।










Discussion about this post