বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘ আলোচনার পর তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর আংশিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তদন্তে জাহানারার করা চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তবে বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মো. মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর আচরণকে অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিটি।
গত ৭ নভেম্বর একটি ইউটিউব সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলার মধ্য দিয়ে বিষয়টি সামনে আসে। এরপর ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। প্রায় দুই মাস ধরে সাক্ষ্য, নথি ও প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা শেষে গত ২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিসিবির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঞ্জুরুল ইসলামের কিছু আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাঁর কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার আওতায় পড়ে। যদিও সব অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও এই পর্যবেক্ষণ নারী ক্রিকেটে নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। গত বছরের ৩০ জুন তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি বর্তমানে চীনের নারী ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রিকেটে যুক্ত করার বিষয়ে বিসিবির করণীয় কী হবে, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।
এই প্রেক্ষাপটে বিসিবি জানিয়েছে, হয়রানি ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির আলোকে বিষয়টি আইনি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বিসিবির বিধিমালা ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বোর্ড। পাশাপাশি নারী ক্রিকেটে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে একটি পৃথক অভিযোগ কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিসিবির উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারপারসন রুবাবা দৌলা।









Discussion about this post