এক সময় মাঠে দাঁড়িয়ে দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন। এখন, সেই আমিনুল ইসলাম বুলবুল খেলার মাঠের বাইরেই লড়ছেন। তবে ব্যাট হাতে নয়, নেতৃত্বের দায়িত্বে। চার মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন বিসিবি সভাপতি হয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন ‘টি-টোয়েন্টি ইনিংস’ খেলার কথা বলে। কিন্তু সময় গড়াতে গড়াতে স্পষ্ট হলো, বুলবুলের ব্যাটে এখন টেস্টের ছাপ-ধৈর্য, কৌশল আর পরিকল্পনার ছায়া।
এবার তিনি প্রস্তুত হয়েছেন আরও বড় ইনিংসের জন্য। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হয়েছেন-সভাপতির চেয়ারটা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
মেয়াদের শেষ দিনে গতকাল তিনি যেন খুলে বসলেন চার মাসের ডায়েরি। ভাষণে কণ্ঠে ছিল না জাঁকজমক বা জোরালো দাবি, বরং এক ধরনের শান্ত আত্মবিশ্বাস।
তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য আমি এসেছি। যদি আপনারা মনে করেন আমি ভালো না, আমি চলে যেতে প্রস্তুত। আমি এসেছি চালিয়ে যেতে, দল তৈরি করতে। এটা আমার একার গল্প না।’
এই চার মাসে মাঠের সাফল্য কম কিছু না-ছেলেদের জাতীয় দল টানা চারটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে। এশিয়া কাপে খেলেছে ফাইনালের দোরগোড়ায়। মেয়েদের দল বিশ্বকাপে খেলেছে। অনূর্ধ্ব-১৯ দল ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছে জিম্বাবুয়েতে। ‘এ’ দল খেলেছে অস্ট্রেলিয়ায়।
তবে বুলবুল শুধু স্কোরবোর্ড দেখেননি, দেখেছেন ভিতরে ভিতরে কীভাবে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। তার উদ্যোগের নাম-‘ত্রিপল সেঞ্চুরি।’
বুলবুল বলেন, ‘আমরা একটা পরীক্ষামূলক আঞ্চলিক ইভেন্ট করেছি চট্টগ্রামের ১১টি জেলাতে। রাজশাহীতেও করেছি। কোচ, কিউরেটর, আম্পায়ার-সব জায়গায় উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। সাইমন টফেল, টনি হেমিং-বিশ্বমানের মানুষদের এনেছি। শুধু জাতীয় দল নয়, ঘরোয়া কাঠামো শক্ত হলে ক্রিকেট এগোবে।’
বিসিবি নির্বাচনে বিতর্ক কম নয়-২০ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে গেছেন, বয়কটের ডাক এসেছে ক্লাব পর্যায় থেকেও। তামিম ইকবালও শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়িয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে সরকারি হস্তক্ষেপের, পক্ষপাতের। বুলবুল নিজেও এক চিঠি নিয়ে হয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রে।
কিন্তু নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন, গঠনমূলকভাবে, ‘আমি গঠনতন্ত্রের মধ্যে ছিলাম। যেহেতু ক্রীড়া সংস্থা ছিল না, অ্যাড হক কমিটি ছিল, তাই যাদের কোয়ালিফিকেশন ছিল, তাদের নিয়েই তালিকা তৈরি করেছি। এটা কেউ চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে আদালত করতে পারে। আমি নিজের বিবেকের জায়গায় ঠিক আছি।’
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হুট করে বদলেছিলেন বলেই তাকে প্রশ্ন করা হয়-কারো অনুরোধে কি নামেন? বলেন, ‘আমার মনে নেই ঠিক কবে বলেছিলাম নির্বাচন করব না। তবে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।’
এমনকি ব্যক্তিগত একটি প্রশ্নও এলো-অনেক সাংবাদিকের ফোন নাম্বার তিনি ব্লক করে রেখেছেন বলে অভিযোগ। বুলবুল বলেন, ‘ব্লক টক কিছু না। দিন যদি ৩০-৩২ ঘণ্টার হতো, তাহলে ভালো হতো। আমার হাতে সময় কম। বিসিবির বাইরেও আইসিসির কাজে আমাকে ব্যস্ত থাকতে হয়। সাংবাদিকদের পাশে চাই, কিন্তু সময় দিতে না পারলেও ইচ্ছাটা সবসময় আছে।’
শেষদিকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বারবার অনুরোধ করলেন-‘গঠনমূলক সমালোচনা করুন। আমি পাশে থাকব। আলোচনা থাকলে যুদ্ধ হয় না।’










Discussion about this post