দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করল আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফাউন্ডেশন। ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা সাবেক ও বর্তমান মোট নয়জন ক্রীড়াবিদকে দেওয়া হয়েছে ‘আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’। রাজধানীর লা মেরিডিয়ান ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে পুরস্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে এই সম্মাননা প্রবর্তন করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখা তারকাদের স্বীকৃতি জানাতেই এ উদ্যোগ। প্রতিটি পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদকে সম্মাননা স্মারকসহ এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।
এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ক্রিকেটে সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ও মারুফা আক্তার, ফুটবলে আলফাজ আহমেদ ও ঋতুপর্না চাকমা, হকিতে আমিরুল ইসলাম, ব্যাডমিন্টনে আল আমিন জুমা, আর্চারিতে সাগর ইসলাম এবং ফুটবলে আফজাল আহমেদ রয়েছেন। সাতটি ডিসিপ্লিনে মোট নয়জন কৃতী ক্রীড়াবিদ এ সম্মাননায় ভূষিত হন।
বিশেষভাবে সম্মানিত হয়েছেন বাংলাদেশ টেবিল টেনিসের অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা ও মহিলা বিভাগের ডাবল ক্রাউনধারী এক নম্বর খেলোয়াড় খই খই সাই মারমা। লন্ডনভিত্তিক ট্রাস্টের উদ্যোগে তাকে দেওয়া হয়েছে ‘আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। ইসলামিক সলিডারিটি গেমস ২০২৫-এ মিশ্র দ্বৈতে রৌপ্যপদক জয় এবং অল্প বয়সে সিনিয়র বিভাগে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা। অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের সভাপতি আবু নাসের শেখ ও সাধারণ সম্পাদক সরফরাজ শাপুসহ ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাঙামাটির রাজস্থলীর প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উঠে আসা খই খইয়ের ক্রীড়া জীবন শুরু বান্দরবনের লামায় অবস্থিত কোয়ান্টাম স্কুলে। পরে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পে থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার সুযোগ পান তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চুক্তিভিত্তিক খেলোয়াড় হিসেবে খেলছেন এবং বিকেএসপি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
গত জানুয়ারিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে আটটি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে ছয়টি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ জিতে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান খই খই। এছাড়া ২০২৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য সাউথ এশিয়ান জুনিয়র টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের প্রাথমিক বাছাইয়ে দুটি সিলেকশনে মোট ১২ ম্যাচে অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্বও অর্জন করেছেন তিনি।










Discussion about this post