চলতি এপ্রিলেই বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে কিউইরা। সিরিজকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। প্রথম দুই ওয়ানডের স্কোয়াডও ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজের দলই রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড দলে এসেছে বেশ কিছু নতুন মুখ, কারণ তাদের অনেক নিয়মিত ক্রিকেটার আইপিএল ও পিএসএলে ব্যস্ত রয়েছেন।
তবে প্রতিপক্ষ দল আংশিক নতুন হলেও তাদের হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির সদস্য মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে নিউজিল্যান্ডকে মোকাবিলা করতে হলে বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হবে। গণমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘নিউজিল্যান্ড যথেষ্ট ভালো দল। সব ফরম্যাটেই যেকোনো দেশকে চ্যালেঞ্জ করে। এই সিরিজ অত হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। হোম সিরিজ হলেও হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। তাদের দলটায় অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসছে। বেশ কিছু পরিবর্তন করেই আসছে। তাদেরকে হালকাভাবে নিলে কিন্তু আমাদের বিপদ ঘটতে পারে। আমাদের সেরাটা সঠিক সময়ে দিতে হবে। এই সিরিজটা থেকে আমরা কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স চাই। যেটা আগামী সিরিজে কাজে লাগবে।’
বর্তমান বাংলাদেশ দলের টপ ও মিডল অর্ডারের কিছু দুর্বলতা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন নান্নু, ‘দেখেন টপ অর্ডার বলেন, মিডল অর্ডার বলেন, লোয়ার-মিডল অর্ডার বলেন, সব কিছুতেই খেলোয়াড় কিন্তু আপনার তৈরি করতে হয় ডমেস্টিকেই। এখানে আমাদের হাই পারফরম্যান্স ইউনিট আছে, এ দলে টাইগার্স ইউনিটও আছে। সেভাবেই কিন্তু ডেভেলাপ করতে হয় এবং প্লেয়ারদের কিন্তু পারফরম্যান্সের ব্যাপারটাও দেখতে হয়, কে কোন পজিশনে কতটুকু ভালো করতে পারে। এখানেই উন্নতির জায়গাটা।’
খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও তিনি স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এরপর আন্তর্জাতিকে সেই প্লেয়ারকে অন্তত ৫-৬টা ইনিংস তো দেখতে হবে যে প্লেয়ারটা কেমন করে। এখানে ধাপে ধাপে আপনাকে চিন্তা করে আগাতে হয়। ৪-৫ ইনিংসে রেজাল্ট না আসলেই বাদ দিয়ে দিলেন, এভাবে চিন্তা করলে হবে না। ওপেনার অনেক দিন ধরেই সমস্যা হচ্ছিল, মিডল অর্ডারে এখন হচ্ছে। পুরো একদম পরিপূর্ণ দল কিন্তু এভাবে হয় না। আস্তে আস্তে তৈরি করতে হয়।’
জাতীয় দলকে আরও শক্তিশালী করতে হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন নান্নু। এ বিষয়ে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। নান্নু বলেন, ‘এখানে সম্মিলিতভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এখানে এইচপিতে আরও জোর দিতে হবে। এইচপি হল এমন জায়গা যেখান থেকে প্লেয়ারদের পুরো ট্রেনিং করা হয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য। এ ব্যাপারে আলোচনা করছি বর্তমান প্রেসিডেন্টের সাথে, কীভাবে আরও ভালোভাবে প্রোগ্রামটা রান করা যায়, ভালো বিশেষজ্ঞ কোচ আনা যায়। এখান থেকেই কিন্তু আগামী দিনের প্লেয়াররা পাইপলাইনে আসবে।’
আগামী ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছাবে নিউজিল্যান্ড দল এবং ১৭ এপ্রিল শুরু হবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। এই সিরিজে নিজেদের প্রস্তুতি ও সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ দল।










Discussion about this post