কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপের মঞ্চটা যেন আবারও নিজের করে নিলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও ফুটবলের এই মহাতারকা দেখিয়ে দিলেন, বড় মঞ্চে তাঁর আলো এখনো ম্লান হয়নি। আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা রক্ষার মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা, আর ম্যাচের তিনটি গোলই এসেছে মেসির পা থেকে।
মঙ্গলবার কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে আলজেরিয়ার সংগঠিত রক্ষণ কিছু সময় পর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নদের আটকে রাখে। সেই জট খুলে দেন মেসি। দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শটে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। গ্যালারিজুড়ে তখন শুধু একটাই নাম—‘মেসি, মেসি’।
বিরতির পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপে ছয়টি আসরে অংশ নেওয়া প্রথম ফুটবলার হওয়ার পর একই রাতে আরেকটি ইতিহাসও গড়লেন তিনি।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। ফলে জার্মানির সাবেক কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের পাশে যৌথভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এসেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তবে ম্যাচটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের গল্প নয়, আর্জেন্টিনারও স্বস্তির জয়। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছে লিওনেল স্কালোনির দল। দলের খেলায় কিছুটা ধীরগতি ও ছন্দপতনের আভাস থাকলেও মেসির অনন্য দক্ষতা এবং সতীর্থদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স সেই শঙ্কা দূর করেছে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে গ্রুপ পর্বে দারুণ সূচনা করল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আর ফুটবল বিশ্বকে আবারও মনে করিয়ে দিলেন মেসি—সময়ের হিসাব তাঁর জন্য আলাদা। বয়স বাড়তে পারে, কিন্তু বড় মঞ্চে জাদু দেখানোর ক্ষমতা এখনো অটুট।









Discussion about this post