সাকিব আল হাসানের নামের সঙ্গে ‘ফিরে আসা’ শব্দটি নতুন নয়। ক্যারিয়ারের নানা সময় সমালোচনার মুখে পড়েও মাঠের পারফরম্যান্সে জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) তিন ম্যাচ পার হলেও ব্যাটে-বলে এখনো দেখা মিলছে না সেই চেনা সাকিবের। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে-সাকিব কি ধীরে ধীরে ফুরিয়ে যাচ্ছেন?
মুম্বাই নিউ ইয়র্কের হয়ে চলতি আসরে প্রথম দুই ম্যাচে মিডল অর্ডারে সুযোগ পেয়েও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। তৃতীয় ম্যাচে তাই ব্যাটিং অর্ডারে আরও নিচে, আট নম্বরে নামানো হয় তাকে। সেখানে ১৩ বলে ১৮ রানের একটি ছোট্ট ইনিংস খেলেন। বল হাতেও পান আসরের প্রথম উইকেট। ব্যক্তিগতভাবে আগের দুই ম্যাচের তুলনায় কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও দলকে জয়ের পথে নিতে পারেননি তিনি। ওয়াশিংটন ফ্রিডম ১৮৮ রানের লক্ষ্য ৯ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের ব্যবধানে টপকে যায়।
তিন ম্যাচে সাকিবের ব্যাটিং পরিসংখ্যানও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। প্রথম ম্যাচে পাঁচ নম্বরে নেমে ৩ বলে করেন মাত্র ১ রান। দ্বিতীয় ম্যাচে চার নম্বরে ব্যাট করে ১৪ বলে করেন ১৫ রান। প্রথম দুই ম্যাচে কোনো উইকেটও পাননি। তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটে-বলে কিছুটা অবদান রাখলেও সেটিকে বড় প্রত্যাবর্তন বলার সুযোগ নেই।
শুধু রান বা উইকেটের হিসাব নয়, তার মাঠের উপস্থিতিও এখন আলোচনার বিষয়। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের মতে, আগের তুলনায় সাকিবকে কিছুটা ধীরগতির মনে হচ্ছে। ফিল্ডিংয়েও সেই চেনা ক্ষিপ্রতা চোখে পড়ছে না। অবশ্য এর পেছনে দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকা, ম্যাচ ফিটনেসের ঘাটতি, বয়স কিংবা দলের কৌশলগত ভূমিকার পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন কারণও থাকতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও সাকিবের খেলার সংখ্যা কমেছে। নিয়মিত ম্যাচ না খেলার প্রভাব তার পারফরম্যান্সে পড়ছে কি না, সেটিও এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একজন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারের কাছ থেকে যে ধারাবাহিক অবদান দল আশা করে, এমএলসির প্রথম তিন ম্যাচে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
তবে সাকিবের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরিচয়ই হলো ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। কঠিন সময় পার করে বারবার নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। চলতি মাসেই শ্রীলঙ্কার লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) জাফনা কিংসের হয়ে মাঠে নামার কথা রয়েছে তার। সেই টুর্নামেন্টই হতে পারে আবারও নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়ার মঞ্চ।








Discussion about this post