সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবহাওয়া, কন্ডিশন এবং উইকেট, সব যেন নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে দিচ্ছে মুস্তাফিজুর রহমানকে। আইএল টি-টোয়েন্টির মঞ্চে দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই বোঝা যাচ্ছে, ফিজ তার স্বরূপে ফিরতে শুরু করেছেন। কাটারের নিখুঁত ব্যবহার, লেন্থে ধারাবাহিকতা এবং ডট বলের চাপ-সব মিলিয়ে তিনি দুবাইয়ের বোলিং আক্রমণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্র হয়ে উঠছেন দ্রুতই।
গালফ জায়ান্টসের বিপক্ষে আগের ম্যাচটি দল জয় করতে না পারলেও মুস্তাফিজ সেখানে ছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা গল্প। ৪ ওভারে ২৬ রানে ২ উইকেট এবং ১৩টি ডট বল-দলের বোলিং আক্রমণে তখন তিনিই ছিলেন নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিটি ওভারেই ব্যাটারদের ভাবনার বাইরে থাকা কাটার আর স্লোয়ারে আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা ছিল স্পষ্ট।
পরের দিনই আবুধাবি নাইট রাইডার্সকে ৮৩ রানে হারানোর ম্যাচে আবারও উজ্জ্বল মুস্তাফিজ। ৩ ওভারে ২২ রানে ২ উইকেট, সঙ্গে ১১টি ডট বল। দুই ম্যাচ মিলিয়ে তার ৪২ বলের ২৪টিই ডট, একদম পরিচিত মুস্তাফিজকে মনে করিয়ে দেওয়া পরিসংখ্যান। এ দুই ম্যাচে ৪ উইকেটের সঙ্গে রান দিয়েছেন মাত্র ৪৮, যা দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাকে রেখেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়।
আবুধাবির বিপক্ষে শুরুতেই উন্মুক্ত চাঁদকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ করান তিনি। পরে ষষ্ঠ ওভারে আবার বোলিংয়ে এসে প্রথমে কিছু রান দিলেও পরের বলেই নিখুঁত কাটারে ফিল সল্টকে বিভ্রান্ত করে আউট করেন। শেষে ছিলেন নিয়মিত, ১৫তম ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ব্যাটারদের হাত খুলতে দেননি।
দুবাই ক্যাপিটালস ব্যাট হাতে ম্যাচকে একতরফা করে দিয়েছিল রোভম্যান পাওয়েলের ৫২ বলে ৯৬ আর জর্ডান কক্সের ৩৬ বলে ৫২ রান ভর করে। কিন্তু আবুধাবি ইনিংসের শুরুতে যে চাপে দল ঢুকে যায়, তার মূল কারণ ছিল মুস্তাফিজের আগ্রাসী ও বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং।
১৩ ডিসেম্বর আবার আবুধাবি নাইট রাইডার্সের মুখোমুখি হবে দুবাই ক্যাপিটালস, আর নজর থাকবে মুস্তাফিজের কাটার আবার কতটা বদলে দিতে পারে ম্যাচের গতি।










Discussion about this post