প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের এক দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ পথচলার ইতি টানলেন ব্যাটার শামসুর রহমান শুভ। তার বিদায়ী দিনটি রঙিন হয়ে উঠল একের পর এক সম্মান প্রদর্শনের হাতছানিতে। ম্যাচ শুরুর আগে মাঠের দুই পাশে সারিবদ্ধ দাঁড়ালেন সতীর্থ ক্রিকেটাররা। দুপাশ থেকে ব্যাট উঁচিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হলো গার্ড অব অনার দিয়ে। সেই পথ ধরে এগিয়ে এলেন শামসুর, চোখে-মুখে আবেগের ছাপ স্পষ্ট।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। পিচের কাছে আরেক সারি অপেক্ষা করছিল প্রতিপক্ষ সিলেটের খেলোয়াড়রা। তারাও করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানালেন বর্ষীয়ান এই ক্রিকেটারকে। এগিয়ে এলে হাত মেলালেন অধিনায়ক জাকির হাসান, পিঠ চাপড়ে শুভেচ্ছা জানালেন মুশফিকুর রহিম। ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসে নেমে শামসুর বড় কিছু করতে পারেননি। তোফায়েল আহমেদের বলে দ্বিতীয় স্লিপে মুবিন আহমেদ দিশানের দুর্দান্ত ক্যাচে ১৭ বলে ১৭ রান করে শেষ হয় তার ব্যাটিং।
তবে ফেরার পথটিও ছিল সম্মানে মোড়ানো। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা জড়ো হয়ে করমর্দন, আলিঙ্গন আর তালি দিয়ে বিদায় জানালেন তাকে। মাঠ ছাড়ার পর সতীর্থ ও স্টাফরা আবারও তৈরি করলেন গার্ড অব অনারের সেই পথ। ড্রেসিং রুমে ফিরে যাওয়ার পথে হেলমেটের গ্রিলের আড়াল থেকেও দেখা যাচ্ছিল তার গাল বেয়ে নেমে আসা অশ্রুবিন্দু, দুই দশকের আবেগ, ভালোবাসা আর স্মৃতির বহিঃপ্রকাশ।
২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় শামসুরের। সেই দলের সদস্য ছিলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমও-যাদের একজন মাঠে থেকেও তার বিদায়ের সাক্ষী হলেন। প্রায় ২১ বছরের ক্যারিয়ারে ১৬০ ম্যাচে ৩৬.২৩ গড়ে ৯ হাজার ৬০২ রান, ২৩ সেঞ্চুরি আর ৪৬ ফিফটিতে রাঙিয়ে তুলেছেন নিজের অর্জন। শেষ মৌসুমে বড় ইনিংস না পেলেও সাদা পোশাকে তার অবদান এক অমূল্য অধ্যায় হয়ে থাকবে।
২০১৪ সালে টেস্ট ক্রিকেটে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান শামসুর। দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি করেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। তবে এরপর আর সুযোগ মিলেনি বড় ফরম্যাটে। তবু ক্রিকেটে তার রেখে যাওয়া স্মৃতি ও অধ্যবসায় অমলিন।










Discussion about this post