আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন একমাত্র টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দল থেকে এই টেস্টে বাদ পড়েছেন একাধিক ক্রিকেটার। আগেই জানা গিয়েছিল, নাহিদ রানা থাকছেন না। এবার তার সঙ্গে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে পেসার তাসকিন আহমেদকেও। দলে জায়গা হয়নি অমিত হাসানের। তবে দীর্ঘদিন পর টেস্ট স্কোয়াডে ফিরেছেন জাকের আলী অনিক।
নাহিদ রানাকে না রাখার কারণ হিসেবে সামনে এসেছে সামনের টেস্টগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি। বিসিবির নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘নাহিদ রানাকে নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করেছি। নাহিদ রানাকে পাওয়া যাবে সামনের মাসের ১০ তারিখ থেকে। সেহেতু তিনি বাদ পড়ে গেছেন টেস্ট ম্যাচ থেকে। ১০ তারিখে তাকে পাওয়া যাবে। আপনারা জানেন আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি টেস্টকে, আমাদের পরবর্তী পাঁচটি টেস্ট ম্যাচ।’
বাশার আরও যোগ করেন, ‘আফগানিস্তান টেস্টের পর আরো চারটা টেস্ট ম্যাচ আছে, এবং ইংল্যান্ডের সাথে ঘরের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ আছে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে। তো এই টেস্ট ম্যাচগুলো আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি যার জন্য নাহিদ রানাকে আসলে আমরা সেরা সম্ভাব্য সুযোগটা দিতে চাই, তিনি যেন সবগুলো ম্যাচ খেলতে পারেন।’
ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বোলিংয়ের পাশাপাশি বাউন্সার ও ইয়র্কারে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের চাপে ফেলার সামর্থ্যের কারণে নাহিদ রানা বাংলাদেশের পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছেন। দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য ওয়াকার ইউনিস ও ইয়ান বিশপের মতো ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের প্রশংসাও পেয়েছেন তিনি। তবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মতো আফগানিস্তানের বিপক্ষেও তাঁকে মাঠের বাইরে থেকেই দলের লড়াই দেখতে হবে।
রানা সবশেষ টেস্ট খেলেছেন এ বছরের মে মাসে সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের জয়ে অবদান রেখেছিলেন তাসকিন আহমেদ। সেই টেস্টে তিন উইকেট নেওয়া তাসকিন পুরো সিরিজে পেয়েছেন চার উইকেট। এরপরও আফগানিস্তান টেস্টে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
তাসকিনকে বিশ্রাম দেয়ার কারণ জানিয়ে বাশার বলেন, ‘তাসকিন আহমেদকেও আমরা এই টেস্ট ম্যাচটাতে বিশ্রাম দিয়েছি। তাকে আমরা যেহেতু প্রাধান্য দিচ্ছি আমাদের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য, তাই তাকে যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ম্যাচটাতে পুরোপুরিভাবে পাই, তার জন্য এই টেস্ট ম্যাচটাতে তাকেও রাখা হয়নি।’
তাসকিনের ব্যাপারে পরে সুমন আরও বলেন, ‘তাসকিন আহমেদকেও আমরা এই টেস্ট ম্যাচ থেকে বিশ্রাম দিয়েছি। অবশ্যই তাকেও আমরা আসলে ডব্লিউটিসি টেস্টের পরবর্তী ম্যাচ, বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ম্যাচে যেন পুরোপুরিভাবে পাই, সেজন্য এই টেস্ট (আফগান টেস্ট) ম্যাচে তাকেও রাখা হয়নি। সে সম্ভবত ওয়ানডে সিরিজ খেলবে। তার ছন্দটা যেন থাকে এবং সে টেস্ট খেলার মধ্যেই আছেন।’
অমিত হাসান দলে জায়গা না পেলেও তাকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। তার জায়গায় দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে জাকের আলী অনিককে। বাশার বলেন, ‘যেহেতু আমাদের আফগানিস্তানের পর টেস্ট ম্যাচগুলি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, আপনার-ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তারপর দক্ষিণ আফ্রিকা, তারপর ইংল্যান্ড; এগুলোতে আসলে আমাদের একটু অভিজ্ঞতারও খুব প্রয়োজন এবং প্রমাণিত খেলোয়াড়দেরও একটু বেশি প্রয়োজন। অমিত হাসান মাত্র শুরু করেছেন, তার অবশ্যই ভবিষ্যতে সুযোগ আসবে; কিন্তু এই টেস্ট ম্যাচগুলোতে আমরা আসলে একদম আমাদের যারা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, যারা আগে খেলেছেন, পারফর্ম করেছেন, তাদেরকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি।’
জাকেরকে দলে নেওয়ার বিষয়ে সুমন বলেন, ‘অমিত হাসান মাত্র ক্যারিয়ার শুরু করেছে। সে অবশ্যই ভবিষ্যতে ফের সুযোগ পাবে। কিন্তু এই টেস্ট ম্যাচগুলোতে আমরা আসলে একদম আমাদের যারা অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, যারা আগে খেলেছে, পারফর্ম করেছে, তাদের নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি। দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবে জাকের আলী অনিককে বেছে নিয়েছি।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় এক বছর ধরে অনিয়মিত জাকের আলী। বাংলাদেশের জার্সিতে সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন তিনি। টেস্টে তাঁকে সর্বশেষ দেখা গেছে জুনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আবারও টেস্ট দলে ফিরছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
অমিত হাসান একমাত্র টেস্ট খেলেছেন জুলাইয়ে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সেই ম্যাচেই টেস্ট অভিষেক হয় তাওহিদ হৃদয়ের। পরে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৩৫০ রানের ইনিংস খেলে আলোচনায় আসেন তিনি। এবার আফগানিস্তান টেস্টের দলে জায়গা পেয়েছেন হৃদয়। অমিত অবশ্য অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে থাকলেও একাদশে সুযোগ পাননি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের অতীতও দুই রকম। এখন পর্যন্ত দুই দল দুটি টেস্ট খেলেছে, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে আফগানিস্তান ২২৪ রানে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল। চার বছর পর সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানকে ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় টাইগাররা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের পেসারদের পারফরম্যান্সও ছিল উল্লেখযোগ্য। আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টে হাসান মাহমুদ নয় উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন। ম্যাকাইয়ে শরীফুল ইসলাম এক ইনিংসে ৪৮ রানে সাত উইকেট নিয়ে বিদেশের মাঠে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন।
আফগানিস্তান টেস্টের জন্য ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে স্পিনার নাঈম হাসানের সঙ্গে থাকছেন দুই পেসার ইকবাল হোসেন ইমন ও মুশফিক হাসান। আগামী ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান একমাত্র টেস্ট। এই সিরিজের পর আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। তবে এখনো কোনো সিরিজের ভেন্যু নিশ্চিত হয়নি।



