আজ থেকে এক বছর আগে ভোটের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব পেয়েছিল ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। শুক্রবার সেই কমিটির এক বছর পূর্ণ হলো। প্রথম নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে সভাপতি নির্বাচিত হওয়া মোহাম্মদ মিঠুন এক বছর পর দাঁড়িয়ে দাবি করছেন, পথটা সহজ না হলেও ক্রিকেটারদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিটি আপস করেনি।
গত এক বছরে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কোয়াবকে বেশি সক্রিয় দেখা গেছে। ক্রিকেটারদের বিভিন্ন ইস্যুতে সংগঠনটির বক্তব্য এসেছে নিয়মিত। তবে প্রশংসার পাশাপাশি কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনাও হয়েছে। বিশেষ করে এবার বিপিএল না হওয়ায় ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে আসার পর কোয়াবের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কোয়াবের দাবি, বিপিএল স্থগিত হওয়ার পর বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছে তারা। পাশাপাশি বিসিবি পরিচালিত ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে পারিশ্রমিক বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে বিপিএল থেকে সম্ভাব্য ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যায়।
এক বছরের আরেকটি বড় অর্জন হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার বিষয়টি তুলে ধরেছে কোয়াব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বর্ষপূর্তিতে মিঠুন বলেন, “কঠিন এক সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব ক্রিকেটারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের সহযোগিতা, সুদৃঢ় বন্ধন ও ঐক্যের কারণেই সফলভাবে ১২ মাস পার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় কমিটির সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই তাদের অব্যাহত সমর্থনের জন্য।
গত ১২ মাস কাজ করা সহজ ছিল না। তবে খেলোয়াড়দের সম্মান ও অধিকারের প্রশ্নে ছাড় দিইনি। বাস্তবসম্মত ও সততার সঙ্গে কোয়াব পরিচালনা করেছি আমরা। সব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছি এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থানে থেকেছি।”
ক্রিকেটারদের কল্যাণে কাজ করা, ঢাকার লিগ চালু রাখতে ভূমিকা, ক্রিকেটারদের সম্মান ও নিরাপত্তার পক্ষে অবস্থান এবং প্রথমবার ওয়েলফেয়ার ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের কথাও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে মিঠুন দেখছেন যৌথ তহবিল শক্তিশালী করা এবং সিনিয়র-জুনিয়র, বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের আরও কাছে আনা। তার প্রত্যাশা, প্রথম বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় বছরে আরও বড় পরিসরে কাজ করবে কোয়াব।
এক বছর শেষে তাই কোয়াবের সামনে শুধু সাফল্যের হিসাব নয়, সেই সাফল্যকে ক্রিকেটারদের বাস্তব সুবিধায় রূপ দেওয়ার পরীক্ষাও।



