সিরিজের প্রথম ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে যে আবহ তৈরি হয়েছে, সেটি অনেক দিন পর দেখা গেছে। আত্মবিশ্বাস আছে, পরিকল্পনা আছে, সবচেয়ে বড় কথা-পাকিস্তানকে হারানোর বিশ্বাসও এখন বাস্তব। মিরপুরে ১০৪ রানের জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ আজ সিলেটে নামছে আরও বড় এক লক্ষ্য নিয়ে-টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে।
সকালে সিলেটে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেও টস হেরেছে বাংলাদেশ। সিরিজ বাঁচানোর ফিল্ডিং নিয়েছেন শুরুতে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। আগে ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক টেস্টে তানজিদ তামিমের অভিষেক হতে পারে বলে আগেই জানা গিয়েছিল। একাদশে মোট দুটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ।
চোটের শঙ্কা থাকলেও স্বাগতিকদের একাদশে থাকছেন মাহমুদুল হাসান জয়। প্রথম টেস্ট খেলা সাদমান ইসলামের এসেছেন তানজিদ তামিম। এবাদত হোসেনকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় একাদশে ফিরলেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।
কিন্তু সিলেটের ক্রিকেট মানেই শুধু ব্যাট-বলের হিসাব নয়, সঙ্গে থাকে আকাশেরও আলাদা ভূমিকা। সীমান্তের ওপারের মেঘালয় আর কাছের চেরাপুঞ্জির প্রভাব যেন সবসময় ভাসতে থাকে এই শহরের বাতাসে। তাই ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনার বড় অংশ জুড়ে আবহাওয়া।
পূর্বাভাস বলছে, টেস্টের প্রথম দিনেই বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ৮৯ শতাংশ। আকাশের প্রায় পুরোটা সময়ই মেঘে ঢাকা থাকতে পারে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও চতুর্থ দিনে আবারও বড় ধরনের বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সকালের দিকে প্রবল বর্ষণ আর বজ্রপাতের সম্ভাবনা ম্যাচের ছন্দে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শেষ দিনে কিছুটা স্বস্তির আভাস আছে। সূর্যের দেখা মিলতে পারে, ফলে ম্যাচের ভাগ্য হয়তো গড়াবে শেষ বিকেলের দিকে।
আবহাওয়ার এই অনিশ্চয়তার মাঝেও বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের জায়গা তৈরি হয়েছে মিরপুর টেস্ট থেকে। সেই ম্যাচে পাকিস্তানকে শুধু হারায়নি দল, ম্যাচের বড় অংশেই নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ব্যাট হাতে। দুই ইনিংসে ১০১ ও ৮৭ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। আর মুমিনুল হক আবারও প্রমাণ করেছেন, টেস্ট ক্রিকেট এখনও তার সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া নামটি ছিল নাহিদ রানা। তরুণ এই পেসারের গতি আর আগ্রাসনের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে তার পাঁচ উইকেটই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় সফরকারীদের।
এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই সিলেটে নামছে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য টেস্ট জয়। আমরা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবো। আমরা জানি কীভাবে পাকিস্তানকে আক্রমণ করতে হবে। আমাদের পরিকল্পনাগুলো যদি ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে পাকিস্তানকে চাপে ফেলতে পারব।’
পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থাকেও খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে বাংলাদেশ। তিন সংস্করণেই ধারাবাহিকতা হারিয়েছে দলটি। তবে প্রতিপক্ষের দুর্বলতাকে বড় করে দেখার পক্ষপাতী নন মুশফিক।
সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ফিরছেন বাবর আজম। প্রথম টেস্টে ইনজুরির কারণে খেলতে না পারা এই তারকা ব্যাটারের ফেরায় বাড়তি আত্মবিশ্বাস পাবে সফরকারীরা, সেটি মানছেন মুশফিকও। তবে অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি মনে করিয়ে দিলেন, বাবর থাকলেও পাকিস্তানকে হারানোর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আছে।
মুশফিক বলেন, ‘বাবরের মতো একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার যদি দলে থাকেন, অবশ্যই মানসিকভাবে পাকিস্তান চাঙা থাকবে। তবে আমরা যখন পাকিস্তানে গিয়ে দুই ম্যাচে তাদেরকে হারিয়েছিলাম, তখন বাবর ঐ দুই টেস্টেই খেলেছে। তারপরও পাকিস্তান আমাদের কাছে হেরেছিল।’
ইতিহাসের পাতায় এখনও পাকিস্তানই এগিয়ে। ১৬ টেস্টে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৩টি। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশ দল যেন অতীতের সেই পরিসংখ্যানকে ধীরে ধীরে অচল করে দিচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সাফল্য তারই প্রমাণ।









Discussion about this post