টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে আগামীকাল নতুন একটি পাতার জন্ম হতে যাচ্ছে ম্যাকাইয়ে। অস্ট্রেলিয়ার মধ্য কুইন্সল্যান্ডের এই শহরের গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক টেস্ট। আর সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের বিশাল জয় নিয়ে সিরিজে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ঘরের মাঠে হার দিয়ে শুরু করা অস্ট্রেলিয়া শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ সমতায় ফেরার অপেক্ষায়। কিন্তু মাঠে নামার আগেই দুই দলকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে যে বিষয়টি, সেটি হলো ম্যাকাইয়ের উইকেট।
কারণ এই মাঠের টেস্ট অভিজ্ঞতা শূন্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়েছে মাত্র তিনটি ম্যাচ। এর একটি আবার দুই বলের পর বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত। বাকি দুটি ওয়ানডে। ফলে টেস্টের পাঁচ দিনের লড়াইয়ে উইকেটের চরিত্র কেমন হবে, সেটি নিয়ে নিশ্চিত কোনো ধারণা নেই কারও।
অস্ট্রেলিয়া অবশ্য অচেনা কন্ডিশনকে বুঝতে পুরোনো এক ম্যাচের আশ্রয় নিয়েছে। দুই বছর আগে এই মাঠেই অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ ও ভারত ‘এ’-র ম্যাচ হয়েছিল। সেই ম্যাচের ভিডিও দেখেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দিনেই ব্রেন্ডন ডগেট ৬ উইকেট নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, উইকেটে পেসারদের জন্য কিছুটা সহায়তা থাকতে পারে। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে চিত্র বদলে যায়। চতুর্থ ইনিংসে ২২৫ রান তাড়া করে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া ‘এ’।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও সেই ম্যাচের তথ্য মাথায় রাখছেন। তবে দুই বছর আগের ম্যাচকে বর্তমানের চূড়ান্ত নির্দেশিকা হিসেবে দেখতে চান না তিনি। কামিন্স বলেন, ‘মনে হয়েছিল, ম্যাচ যত গড়িয়েছে ব্যাটিং করা তত সহজ হয়েছে। তবে সেটি তো দুই বছর আগের ঘটনা। আমরা এটাকে তথ্য হিসেবে বিবেচনা করছি, কিন্তু একাদশ নির্বাচনের একমাত্র কারণ এটি নয়।’
এই মাঠে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাও খুব বেশি নয়। গত এক দশকে গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনায় প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হয়েছে মাত্র তিনটি। আর সেগুলো হয়েছিল বছরের শেষদিকে, যখন আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ ছিল। এবার সময়টা ভিন্ন, আবহাওয়াও ঠান্ডা।
সেই পার্থক্যই উইকেটের চরিত্র বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন পিচ কিউরেটর পিটার কাজাকফ। তার মতে, এবার উইকেটে আর্দ্রতা তুলনামূলক বেশি সময় থাকতে পারে। কাজাকফ বলেন, ‘ম্যাচের পরের দিকে স্পিনাররা বেশ ভালো প্রভাব ফেলেছেন। তবে সেটা তো আমার সিদ্ধান্ত নয়। ওই প্রথম শ্রেণির ম্যাচগুলো বছরের একটু পরের দিকে হয়েছিল, যখন আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ ছিল। বছরের এই সময়ে অনেক বেশি ঠান্ডা। ফলে উইকেটের আর্দ্রতা তুলনামূলক ধীরে বের হবে।’
অর্থাৎ, শুরুতে পেসারদের জন্য ম্যাকাইয়ের উইকেট কিছুটা বেশি সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনাই উঁকি দিচ্ছে। আর সেটিই বাংলাদেশের জন্যও হয়ে উঠতে পারে আশীর্বাদ। কারণ ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের পেস আক্রমণই তৈরি করেছিল ম্যাচের ভিত। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেছিলেন তারা।
তবে ম্যাচ যত এগিয়েছে, স্পিনও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। নাথান লায়ন খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজ তুলে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। ফলে ম্যাকাইয়ের উইকেট যদি ম্যাচের শেষ দিকে ধীরে ধীরে স্পিনবান্ধব হয়ে ওঠে, বাংলাদেশের জন্যও তা হতে পারে বড় অস্ত্র।



