ডারউইনে ইতিহাস গড়ার পর এবার বাংলাদেশের সামনে সিরিজ জয়ের নতুন সুযোগ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ শনিবার ভোরে ম্যাকাইয়ে নামবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে। একদিকে সিরিজ জয়ের হাতছানি, অন্যদিকে ঘরের মাঠে সিরিজ বাঁচানোর মরিয়া লড়াই অস্ট্রেলিয়ার। এর মাঝেই ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশ শিবিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে তানজিদ হাসান তামিম ও মুশফিকুর রহিমের চোট।
বৃহস্পতিবার অনুশীলনে আঙুলে চোট পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবশ্য আবার ব্যাটিংয়ে ফিরেছিলেন তিনি। ঘাড়ের ব্যথার কারণে সেদিন ব্যাটিং করেননি তানজিদ হাসান তামিম। শুক্রবার সকালে আঙুলে স্ক্যান করানোর পর অনুশীলনে যোগ দেন তামিম, ব্যাটিংও করেছেন। ফলে ম্যাচের একাদশ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে।
ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও দুজনকে নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মুশফিক ভাই ঠিক আছে। তামিমও আজকে ব্যাট করেছে। আশা করছি কালকে সকালে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’
তামিমের খেলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্য ম্যাচের সকালেই নেওয়া হবে। তবে শুক্রবারের অনুশীলন বাংলাদেশকে ইতিবাচক বার্তাই দিয়েছে। শান্তর ভাষায়, ‘আইডিয়া তো হয়েছেই। কালকে সকালে আবার দেখব। ভালো আইডিয়া হয়েছে। তামিম আজকে ব্যাট করেছে। মেডিকেল টার্মস অনুযায়ী, কালকে সকাল পর্যন্ত দেখতে হবে। আমাদের হাতে সব ধরনের অপশন আছে। আমার মনে হয় না খুব বেশি সমস্যা হবে (তানজিদ তামিম না খেললে)।’
অর্থাৎ, তামিম খেলতে না পারলেও সেটিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক। বরং দলের হাতে বিকল্প আছে বলেই আত্মবিশ্বাসী শান্ত। তবে তামিমের শুক্রবারের ব্যাটিং ম্যাচের আগে বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর।
ম্যাকাইয়ের কন্ডিশন নিয়েও আগাম হিসাব কষছে বাংলাদেশ। এখানকার বাতাসকে কাজে লাগাতে পারলে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে মনে করছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘বাতাসের জন্য বোলাররা সাহায্য পাবেই, সুইং কিছুটা পেতে পারে। বাতাস যদি কাজে লাগাতে পারে বোলাররা, অবশ্যই তাদের জন্য ভালো সুযোগ থাকবে।’
এই কন্ডিশনে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ওপরও তাই বাড়তি নজর থাকবে। চোট কাটিয়ে দলে ফেরা শরিফুল ইসলামকে নিয়ে শান্তর কণ্ঠেও আত্মবিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘শরিফুল ভালো আছে সুস্থ আছে। ভালো বোলিংও করছে। আশা করি যদি তার সুযোগ আসে সে ভালো করবে।’
ডারউইনে পাওয়া জয় বাংলাদেশকে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ম্যাকাই টেস্টটি সিরিজে ফেরার শেষ সুযোগ। ফলে দুই দলের জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব একেবারে ভিন্ন হলেও লক্ষ্য পরিষ্কার—বাংলাদেশ চায় ইতিহাসের পর আরেকটি সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে, আর অস্ট্রেলিয়া চাইবে ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ সমতায় শেষ করতে।



